প্রকাশিত: 12:58 PM, August 6, 2026 | আপডেট: 12:58:PM, August 6, 2026
SHARES
প্রতীকী ছবি
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন চরম দুর্ভোগে পড়েছে। দিনের পাশাপাশি রাতেও বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এরই মধ্যে অনেক গ্রাহক অভিযোগ করছেন, নিয়মিত বিদ্যুৎ না পেলেও মাস শেষে তাদের হাতে আগের তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ বিল পৌঁছাচ্ছে।
রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও এক থেকে দুই ঘণ্টা, আবার কোথাও একাধিক দফায় লোডশেডিং হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থদের কষ্ট আরও বেড়েছে।
এদিকে অনেক গ্রাহক দাবি করেছেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ কম পেলেও তাদের বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। প্রিপেইড ও পোস্টপেইড—উভয় ধরনের মিটার ব্যবহারকারীদের মধ্যেই এমন অভিযোগ দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহকরা বিল পুনঃযাচাই এবং প্রয়োজন হলে সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকেই বেশি বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অভিযোগ ওঠার খবর প্রকাশিত হয়েছে।
জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। বিশেষ করে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যার প্রভাব বিদ্যুৎ বিতরণে পড়ছে এবং বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে।
বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞদের মতে, চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে ব্যবধান, জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা এবং বিতরণ ব্যবস্থার চাপ—এসব কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। তারা বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বিলিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, অতিরিক্ত বিল সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। গ্রাহকদের অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের হটলাইন বা গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, দ্রুত লোডশেডিং কমিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিলের অসঙ্গতি দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।