দীর্ঘদিনের সংকটের পর বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। সমুদ্রে স্থাপিত ভাসমান এলএনজি (LNG) টার্মিনালের একটি ইউনিট পুনরায় চালু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত গ্যাস যোগ হচ্ছে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা এবং আবাসিক খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
গত জুলাই মাসে টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের কারণে বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রতিদিনের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং শিল্পখাতে গ্যাসের সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। অনেক এলাকায় আবাসিক গ্রাহকরাও স্বাভাবিক গ্যাসচাপ পাননি।
এখন একটি রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট পুনরায় চালু হওয়ায় প্রতিদিন প্রায় ১১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। যদিও এটি টার্মিনালের পূর্ণ সক্ষমতার তুলনায় কম, তবুও চলমান সংকট নিরসনে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপনের কাজ অব্যাহত রয়েছে। বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এনে মেরামত শেষ হলে টার্মিনালটি আবার পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা দেশীয় উৎপাদনের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরতা ক্রমেই বাড়ছে। তাই এ ধরনের অবকাঠামো সচল রাখা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে টার্মিনাল আংশিক চালু হওয়ায় শিল্পকারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে পুরো সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন: রূপপুরের ‘মিনি রাশিয়া’ পারমাণবিক স্বপ্নের ছায়ায় এক বহুসাংস্কৃতিক জনপদের গল্প

