মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জনে ব্যর্থ হলে পুনরায় সরাসরি সামরিক সংঘাত শুরু হতে পারে বলে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে Iran। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi জানিয়েছেন, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় তেহরান সর্বাত্মক প্রস্তুত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধির পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ Strait of Hormuz কার্যত অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের বড় একটি অংশ এই প্রণালির মাধ্যমে হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
আরাঘচি বলেন, ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করলে তার অর্থনৈতিক প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রকেও বহন করতে হবে। তার দাবি, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট বাড়লে মার্কিন অর্থনীতিতে ঋণ ও সুদের চাপ আরও বাড়তে পারে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি ঋণের খেলাপি পরিস্থিতি ইতোমধ্যে উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে Mohammad Bagher Ghalibaf যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নীতির সমালোচনা করে বলেন, বিপুল ঋণের বোঝা নিয়েও ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা করছে। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে।
কূটনৈতিক আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর একটি হয়ে উঠেছে Strait of Hormuz–এর নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা। ইরান দাবি করছে, ভবিষ্যৎ যেকোনো সমঝোতায় এই জলপথে তাদের বিশেষ অধিকার স্বীকৃত হতে হবে। তবে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ একে আন্তর্জাতিক নৌপথ হিসেবে উল্লেখ করে তেহরানের অবস্থানের বিরোধিতা করেছে।
শনিবার ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান Ebrahim Azizi জানান, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য একটি নতুন বিশেষ রুট প্রস্তুত করা হয়েছে। খুব শিগগিরই এটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হতে পারে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই রুট মূলত বাণিজ্যিক অংশীদার ও ইরানের সঙ্গে সহযোগিতাপূর্ণ দেশগুলোর জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং ব্যবহারকারী জাহাজকে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে।
অন্যদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়ছে ইরানের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও। দেশটির বাজারে খাদ্যদ্রব্যের মূল্যস্ফীতি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। চাল, ডাল, ভোজ্যতেল ও মুরগির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম গত এক বছরে কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের মানও রেকর্ড পরিমাণ কমে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংকট শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। আন্তর্জাতিক মহল এখন নতুন করে উত্তেজনা এড়াতে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে।
এদিকে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে Donald Trump ও Xi Jinping–এর বৈঠকের পর China মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস বৈঠকে আরাঘচি জানান, বেইজিংয়ের যেকোনো ইতিবাচক কূটনৈতিক উদ্যোগকে তেহরান স্বাগত জানাবে।

