পবিত্র শুক্রবারের করণীয় ও বর্জনীয়

প্রকাশিত: ১১:৩৩ অপরাহ্ণ, মে ১৪, ২০২৬ | আপডেট: ১১:৩৩:অপরাহ্ণ, মে ১৪, ২০২৬

 

 

ইসলামে শুক্রবার বা জুমার দিন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতময় দিন। মুসলমানদের জন্য এটি সাপ্তাহিক ঈদের দিনের মতো সম্মানিত। এ দিনে বিশেষ ইবাদত, দোয়া, জিকির এবং জুমার নামাজ আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ রয়েছে। পবিত্র কুরআন ও হাদিসে জুমার দিনের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে বহু আলোচনা এসেছে। তাই একজন মুসলমানের উচিত এ দিনের করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো জানা এবং সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা

 

 

জুমার দিনের গুরুত্ব ও ফজিলত

কুরআনের আলোকে

আল্লাহ তাআলা বলেন:

“হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ করো। এটা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে।”

— সূরা আল-জুমআ : ৯

এই আয়াত থেকে বোঝা যায় যে জুমার নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এর সময় দুনিয়াবি কাজকর্ম ত্যাগ করে আল্লাহর ইবাদতে মনোযোগ দেওয়া আবশ্যক।

 

হাদিসের আলোকে

প্রিয় নবী”,”মুহাম্মদ (সা.)”,”ইসলামের শেষ নবী”  বলেছেন:

“সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে শুক্রবার সর্বোত্তম দিন।”

— সহিহ মুসলিম

আরও একটি হাদিসে এসেছে:

“জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলমান আল্লাহর কাছে যা চায়, আল্লাহ তাকে তা দান করেন।”

— সহিহ বুখারি

 

 

জুমার দিনের করণীয়

১. গোসল করা

জুমার দিনে গোসল করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে জুমার নামাজে যাওয়া অত্যন্ত ফজিলতের কাজ।

২. পরিষ্কার ও সুন্দর পোশাক পরা

পরিষ্কার কাপড় পরা, সুগন্ধি ব্যবহার করা এবং নিজেকে পরিপাটি রাখা সুন্নত। এতে মুসলিম সমাজে সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলা বজায় থাকে।

৩. মিসওয়াক করা

জুমার দিনে মিসওয়াক করা উত্তম আমল। এটি মুখ পরিষ্কার রাখে এবং সুন্নত পালনের সওয়াব পাওয়া যায়।

 

৪. আগে আগে মসজিদে যাওয়া

যত আগে মসজিদে যাওয়া যায় তত বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। হাদিসে এসেছে, আগে গেলে বেশি নেকি লাভ হয়।

৫. সূরা কাহফ তিলাওয়াত করা

জুমার দিনে সূরা কাহফ পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি শুক্রবার সূরা কাহফ তিলাওয়াত করবে তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় আলোকিত হবে।

৬. বেশি বেশি দরুদ শরিফ পড়া

পবিত্র শুক্রবারে নবী entity[“people”,”মুহাম্মদ (সা.)”,”ইসলামের শেষ নবী”]-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা উত্তম।

৭. দোয়া ও ইস্তিগফার করা

এ দিনে দোয়া কবুলের বিশেষ সময় রয়েছে। তাই বেশি বেশি তওবা, ইস্তিগফার ও দোয়া করা উচিত।

৮. মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা

ইমামের খুতবা মনোযোগ সহকারে শোনা ওয়াজিবের কাছাকাছি গুরুত্বপূর্ণ। খুতবার সময় কথা বলা বা অন্যকে চুপ করতে বলাও অনুচিত।

৯. জুমার নামাজ আদায় করা

প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষদের ওপর জুমার নামাজ ফরজ। তাই যথাসময়ে জামাতের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করা আবশ্যক।

১০. বেশি বেশি জিকির করা

“সুবহানাল্লাহ”, “আলহামদুলিল্লাহ”, “আল্লাহু আকবার” ইত্যাদি জিকির বেশি বেশি করা উত্তম।


জুমার দিনের বর্জনীয় কাজ

১. জুমার নামাজ ছেড়ে দেওয়া

অকারণে জুমার নামাজ ত্যাগ করা গুরুতর গুনাহ। ধারাবাহিকভাবে জুমা ত্যাগ করলে অন্তর কঠিন হয়ে যায় বলে হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে।

২. খুতবার সময় কথা বলা

খুতবার সময় কথা বলা, মোবাইল ব্যবহার করা বা অমনোযোগী হওয়া অনুচিত। এতে জুমার সওয়াব কমে যায়।

৩. আজান হওয়ার পর ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যস্ত থাকা

জুমার আজানের পর ব্যবসা-বাণিজ্য ও অপ্রয়োজনীয় কাজ বন্ধ করে নামাজের প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।

৪. অন্যকে কষ্ট দেওয়া

মসজিদে জায়গা নেওয়ার জন্য ধাক্কাধাক্কি করা, লোকজনের ঘাড় ডিঙিয়ে সামনে যাওয়া বা অন্যকে বিরক্ত করা উচিত নয়।

৫. অপরিষ্কার অবস্থায় মসজিদে যাওয়া

দুর্গন্ধযুক্ত পোশাক, অপরিষ্কার শরীর বা অপবিত্র অবস্থায় মসজিদে যাওয়া অনুচিত।

৬. গীবত ও মন্দ কাজ করা

জুমার দিনের মর্যাদা রক্ষার জন্য গীবত, মিথ্যা, ঝগড়া-বিবাদ ও পাপ কাজ থেকে বিরত থাকা জরুরি।

৭. সময় নষ্ট করা

অযথা আড্ডা, অলসতা ও অনর্থক কাজে সময় নষ্ট না করে ইবাদতে সময় ব্যয় করা উত্তম।


জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ সুন্নতসমূহ

  • ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করা
  • নখ কাটা ও পরিচ্ছন্ন থাকা
  • আতর বা সুগন্ধি ব্যবহার করা
  • হেঁটে মসজিদে যাওয়ার চেষ্টা করা
  • মসজিদে গিয়ে নফল নামাজ পড়া
  • ইমামের কাছাকাছি বসা
  • বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করা

জুমার দিনের শিক্ষা

জুমার দিন মুসলমানদের ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেয়। এ দিন ধনী-গরিব, ছোট-বড় সবাই একসাথে মসজিদে সমবেত হয়ে আল্লাহর ইবাদত করে। এর মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পায়।


বর্তমান সমাজে জুমার দিনের গুরুত্ব

বর্তমান ব্যস্ত জীবনে মানুষ দুনিয়াবি কাজে এত বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ে যে আত্মিক শান্তি হারিয়ে ফেলে। জুমার দিন মানুষকে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার সুযোগ দেয়। এটি মানুষের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও সামাজিক বন্ধনকে শক্তিশালী করে।


উপসংহার

পবিত্র শুক্রবার মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতের দিন। এ দিনে ইবাদত-বন্দেগি, দোয়া, জিকির, কুরআন তিলাওয়াত ও জুমার নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সুযোগ রয়েছে। তাই আমাদের উচিত জুমার দিনের করণীয় কাজগুলো যথাযথভাবে পালন করা এবং বর্জনীয় বিষয়গুলো থেকে দূরে থাকা। আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের সবাইকে জুমার দিনের মর্যাদা রক্ষা করে আমল করার তাওফিক দান করেন। আমিন।

আমি পবিত্র শুক্রবার (জুমার দিন) সম্পর্কে করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়সমূহ নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বাংলা প্রতিবেদন তৈরি করেছি।