উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসে দুর্দান্ত সূচনা করেছে পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলানের নতুন চলচ্চিত্র ‘দ্য ওডিসি’। মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তেই ছবিটি আয় করেছে১২৪.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা চলতি বছরের সবচেয়ে বড় লাইভ-অ্যাকশন উদ্বোধনী আয়ের রেকর্ড।
শতকোটি ব্যয়ের সিনেমার আয় ১১৩৩ কোটি টাকা ছাড়িয়ে
শুধু উত্তর আমেরিকাতেই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও ছবিটির সাফল্য চোখে পড়ার মতো। বিদেশি বাজার থেকে আরও ১৩৯ মিলিয়ন ডলার আয় করে ছবিটির বৈশ্বিক আয় দাঁড়িয়েছে ২৬৩.৫ মিলিয়ন ডলারে। ফলে প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ডলারের নির্মাণ ব্যয় মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই উঠে এসেছে।
ইউনিভার্সালের প্রযোজনায় নির্মিত এই ছবিতে অভিনয় করেছেন ম্যাট ডেমন, অ্যান হ্যাথাওয়েসহ তারকাবহুল এক দল শিল্পী। মুক্তির আগে বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল ছবিটি প্রথম সপ্তাহান্তে ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও কম আয় করবে। কিন্তু সেই পূর্বাভাসকে ছাপিয়ে প্রত্যাশার চেয়েও বড় সাফল্য পেয়েছে ‘দ্য ওডিসি’।
“এই নদী এই মাটি” গানের সিডি’র মোড়ক উন্মোচন
বিনোদন বিশ্লেষক ডেভিড এ. গ্রস বলেন, আধুনিক সময়ে ক্রিস্টোফার নোলানের মতো নির্মাতা খুব কমই আছেন, যিনি প্রায় তিন হাজার বছর পুরোনো একটি মহাকাব্যকে এত বড় সাংস্কৃতিক ঘটনায় পরিণত করতে পারেন।
প্রাচীন গ্রিক কবি হোমারের বিখ্যাত মহাকাব্যের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত ছবিটিতে ট্রয় যুদ্ধ শেষে নিজ ভূমিতে ফেরার পথে বীর ওডিসিউসের দীর্ঘ ও বিপদসংকুল অভিযানের কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
আরও একটি বিশেষ দিক হলো, এটি বিশ্বের প্রথম চলচ্চিত্র যা সম্পূর্ণভাবে আইম্যাক্স ফিল্ম ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও ঐতিহ্যবাহী চলচ্চিত্র নির্মাণশৈলীর সমন্বয়ে নোলান ছবিটিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছেন।
এদিকে বক্স অফিসে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ডিজনির ‘মোয়ানা’। মুক্তির দ্বিতীয় সপ্তাহে ছবিটি উত্তর আমেরিকায় ১৯ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। এ নিয়ে দেশটিতে এর মোট আয় ৮২ মিলিয়ন ডলার, আর বিশ্বব্যাপী আয় পৌঁছেছে ১৭৮ মিলিয়ন ডলারে।
তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইউনিভার্সালের ‘মিনিয়ন্স অ্যান্ড মনস্টার্স’। সপ্তাহান্তে ছবিটি আরও ১৪.৮ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। তিন সপ্তাহে এর বৈশ্বিক আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৫৭.৬ মিলিয়ন ডলারে।
ডিজনির ‘টয় স্টোরি ৫’ পঞ্চম সপ্তাহে নেমে এসেছে চতুর্থ স্থানে। সপ্তাহান্তে ছবিটির আয় ১৩ মিলিয়ন ডলার, আর বিশ্বব্যাপী মোট আয় পৌঁছেছে প্রায় ৯৫৮ মিলিয়ন ডলারে।
অন্যদিকে ওয়ার্নার ব্রাদার্সের ‘ইভিল ডেড বার্ন’ সপ্তাহান্তে উত্তর আমেরিকায় ৫ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। মুক্তির দুই সপ্তাহে ছবিটির দেশীয় আয় ২৪ মিলিয়ন ডলারের বেশি, আর বিশ্বব্যাপী আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫১ মিলিয়ন ডলারে।
এই প্রতিবেদনটি সংবাদপত্র বা অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশের উপযোগী করে অনুবাদ ও পুনর্লিখন করা হয়েছে।

