বিক্রি হচ্ছে নরসিংদীর ঐতিহ্যবাহী মমতা সিনেমা হল: পাঁচ দশকের যাত্রার অবসান

প্রকাশিত: ১১:১৪ অপরাহ্ণ, জুন ১৮, ২০২৬ | আপডেট: ১১:১৪:অপরাহ্ণ, জুন ১৮, ২০২৬

 

দীর্ঘ ৪৭ বছরের ইতিহাসের ইতি টানতে যাচ্ছে নরসিংদীর মাধবদীর ঐতিহ্যবাহী মমতা সিনেমা হল। ক্রমাগত লোকসান ও দর্শক সংকটের কারণে হলটির মালিকপক্ষ সম্পত্তিটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতোমধ্যে সিনেমা হলের প্রবেশপথে বিক্রির বিজ্ঞপ্তি টানানো হয়েছে।

 

 

১৯৭৯ সালে সফর আলী ভূঁইয়া প্রতিষ্ঠিত মমতা সিনেমা এক সময় নরসিংদী জেলার জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্রগুলোর অন্যতম ছিল। সে সময় জেলাজুড়ে ২০টিরও বেশি সিনেমা হল চালু থাকলেও বর্তমানে টিকে আছে মাত্র দুটি—মাধবদীর মমতা সিনেমা এবং ঘোড়াশালের সোহাগ সিনেমা।

 

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের একক পর্দার (সিঙ্গেল-স্ক্রিন) সিনেমা হলগুলোর যে সংকট চলছে, মমতা সিনেমার পরিস্থিতিও তারই প্রতিচ্ছবি। ঈদ বা বড় উৎসবকে ঘিরে কিছু দর্শক সমাগম হলেও বছরের অধিকাংশ সময় হলটি লোকসানের মুখে পড়ে।

 

 

 

মালিকপক্ষের প্রতিনিধি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপক শাহাদাত হোসেন জানান, কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিক ক্ষতির কারণে হলটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

 

 

তিনি বলেন, “চার দিন আগে বিক্রির নোটিশ টানানো হয়েছে। উপযুক্ত ক্রেতা পাওয়া গেলে সিনেমা হল ও এর আশপাশের জমিসহ পুরো সম্পত্তি বিক্রি করে দেওয়া হবে।”

 

 

প্রায় এক দশক আগে মূল মালিক সিনেমা হল পরিচালনা থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর বিভিন্ন ব্যক্তি ইজারা নিয়ে হলটি পরিচালনা করলেও কেউ লাভের মুখ দেখেননি। অনেক ক্ষেত্রে কর্মচারীদের বেতন দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছিল।

 

 

 

সর্বশেষ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান শাকিব খান অভিনীত এবং আজমান রুশো পরিচালিত ‘রকস্টার’ সিনেমা প্রদর্শনের সময়ও উল্লেখযোগ্য লোকসানের মুখে পড়ে। এর ফলে হলটি টিকিয়ে রাখার সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে যায়।

 

 

নরসিংদীতে সিনেমা হল বন্ধ হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। ২০২৫ সালে মনোহরদী উপজেলার চালাকচর ইউনিয়নের রুনা সিনেমা প্রায় চার দশক চালু থাকার পর বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে ২০২৪ সালে রায়পুরার হাসনাবাদ এলাকার ছন্দা সিনেমা বিক্রি করে অন্য কাজে ব্যবহার করা হয়।

 

 

স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীরা মনে করছেন, মমতা সিনেমার বিক্রি শুধু একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সমাপ্তি নয়; এটি নরসিংদীর সাংস্কৃতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়েরও অবসান। ডিজিটাল বিনোদনের বিস্তার, অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয়তা এবং প্রেক্ষাগৃহমুখী দর্শক কমে যাওয়ার ফলে দেশের ঐতিহ্যবাহী একক পর্দার সিনেমা হলগুলো একে একে হারিয়ে যাচ্ছে।

 

 

 

মমতা সিনেমার বিদায় সেই দীর্ঘ অবক্ষয়ের ধারাবাহিকতায় আরেকটি দুঃখজনক সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।