শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন মানবাধিকারকর্মী নাভি পিল্লাই
আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার রক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি
আন্তর্জাতিক শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার রক্ষায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মী নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। শুক্রবার নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি তাঁর নাম ঘোষণা করে। আন্তর্জাতিক আইনকে শক্তিশালী করা এবং যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচারের ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তাঁকে এ সম্মান দেওয়া হয়েছে।
নোবেল কমিটির ভাষ্য অনুযায়ী, নাভি পিল্লাই দীর্ঘ কর্মজীবনে আন্তর্জাতিক আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকারের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় তিনি নেলসন ম্যান্ডেলাসহ বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের কর্মীদের পক্ষে আইনগত সহায়তা দেন।
১৯৪১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন নাভি পিল্লাই। আইন পেশায় প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পর তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার উচ্চ আদালতের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেও বিচারক হিসেবে কাজ করেন।
১৯৯৯ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়িত্ব পালনকালে যৌন সহিংসতাকে যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার সঙ্গে সম্পর্কিত অপরাধ হিসেবে বিচারের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ছিলেন।
এ ছাড়া ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগসংক্রান্ত মামলায় তিনি অস্থায়ী বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
নোবেল কমিটি মনে করে, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং সংঘাতের শিকার মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকর প্রয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নাভি পিল্লাইয়ের দীর্ঘদিনের কাজ সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।
তাঁর এই অর্জন বিশ্বজুড়ে মানবাধিকারকর্মী, আইনজ্ঞ ও ন্যায়বিচারের পক্ষে কাজ করা ব্যক্তিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

