অর্থনীতি ডেস্ক:
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪.৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি। সংস্থাটির মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ কিছুটা কমে আসা এবং দেশের অভ্যন্তরে চলমান অর্থনৈতিক সংস্কারের ফলে প্রবৃদ্ধির গতি আরও শক্তিশালী হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে এইচএসবিসির প্রধান এশিয়া অর্থনীতিবিদ ও গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট রিসার্চের সহ-প্রধান ফ্রেডেরিক নিউম্যান বলেন, বাংলাদেশ প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখার সক্ষমতা দেখিয়েছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে আসা, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা হ্রাস এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের রপ্তানি খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পকে নতুন করে গতি দেবে। বছরের দ্বিতীয়ার্ধে পোশাক রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে।
ফ্রেডেরিক নিউম্যান আরও বলেন, দেশে চলমান অর্থনৈতিক সংস্কারের ইতিবাচক প্রভাব ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে। এর ফলে বেসরকারি বিনিয়োগ ও ভোক্তা ব্যয় বাড়বে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে নেবে।
গত দুই বছরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ এবং ধীর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মুখে ছিল। তবে এইচএসবিসির মতে, চলমান সংস্কার কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বাড়লে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার আরও জোরদার হবে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪.১৪ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের ৩.৪৯ শতাংশের তুলনায় বেশি। অন্যদিকে সরকার চলতি অর্থবছরের জন্য ৬.৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি জানান, ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে তৈরি পোশাকের বাইরে অন্যান্য খাতে রপ্তানি সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তার মতে, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, নিয়ন্ত্রক জটিলতা দূর করা, নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে নতুন শিল্পের বিকাশ ঘটাতে পারলে দেশের রপ্তানি খাত আরও বহুমুখী হবে।
অনুষ্ঠানে এইচএসবিসির আন্তর্জাতিক বাজারবিষয়ক ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান প্রিয়া কিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সময়োপযোগী অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন শুধু উচ্চ প্রবৃদ্ধির ওপর নির্ভর করবে না; বরং টেকসই ও মানসম্মত প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করাই হবে মূল লক্ষ্য। এ জন্য ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলে আরও উচ্চ অবস্থানে পৌঁছানো প্রয়োজন।

