আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বেড়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে পাল্টাপাল্টি হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ এবং সামরিক তৎপরতার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে ইরানে আটক এক মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দেওয়ার ঘটনা পরিস্থিতি শান্ত করার সম্ভাবনাও তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
শ্রীলঙ্কার কারাগারে ভয়াবহ দাঙ্গা: নিহত ২৩, আহত শতাধিক
গত মাসে একটি সমঝোতার মাধ্যমে সাময়িকভাবে সংঘর্ষ কমে এলেও বুধবার যুক্তরাষ্ট্র একদিনে দুই দফায় বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়। মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক স্থাপনা ও উপকূলীয় এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরানও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। দেশটি প্রতিবেশী কয়েকটি দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এর মধ্যে জর্ডানের একটি সম্প্রসারিত বিমান ঘাঁটিতে বড় ধরনের হামলার দাবি করেছে তেহরান।
ইরান যুদ্ধ ও সামরিক ব্যয় মেটাতে ৮০ বিলিয়ন ডলার চায় যুক্তরাষ্ট্র
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত
সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে। ইরান আবারও এই অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ জোরদারের চেষ্টা করায় তেল ও গ্যাস পরিবহনে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের খার্গ দ্বীপের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। এতে জাহাজটির একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের বড় একটি অংশের জ্বালানি সরবরাহ হয়ে থাকে। ফলে এই পথে বাধা সৃষ্টি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এদিকে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীকে ব্যবহার করে লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালিতেও চাপ সৃষ্টি করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালালে হুথিদের মাধ্যমে ওই নৌপথ বন্ধ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
ইরানে গ্রেপ্তার ইসরায়েলের ২২ গুপ্তচর
মার্কিন নাগরিক মুক্তিতে কূটনীতির সম্ভাবনা
উত্তেজনার মধ্যেই ইরান থেকে এক মার্কিন নাগরিক মুক্তি পাওয়ার ঘটনা নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটিকে ‘সদিচ্ছার পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মানবাধিকার আইনজীবী জ্যারেড জেনসার জানিয়েছেন, মুক্তি পাওয়া ওই মার্কিন নাগরিক ডেনা কারারি। তার দাবি, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে তিনি ইরানে আটক ছিলেন এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পথে রয়েছেন।
যদিও এ বিষয়ে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অতীতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও বন্দি বিনিময় ও নাগরিক মুক্তির মতো বিষয়গুলো গোপন কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে সমাধান হয়েছে।
বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা-স্পেন: টানা দ্বিতীয়বার শিরোপার লড়াইয়ে আলবিসেলেস্তেরা
ইরানের অভ্যন্তরে উদ্বেগ
নতুন করে শুরু হওয়া হামলা ইরানের সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। কয়েক সপ্তাহের সংঘাত ও সামরিক উত্তেজনার পর অনেক মানুষ আবারও যুদ্ধের আশঙ্কায় আতঙ্কিত।
তেহরানের এক বাসিন্দা রয়টার্সকে বলেন, “যুদ্ধ আবার শুরু হওয়ার ভয় নিয়ে জীবনযাপন করা খুব কঠিন। মানুষ যুদ্ধ চায় না, তারা শান্তি ও কূটনৈতিক সমাধান চায়।”
হরমুজ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থান
ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ অক্ষুণ্ন থাকবে। দেশটি চায়, জাহাজগুলো তাদের উপকূলের কাছ দিয়ে নির্দিষ্ট পথে চলাচল করুক। ভবিষ্যতে এ পথ ব্যবহারের জন্য শুল্ক আরোপের বিষয়েও তেহরান আলোচনা করছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জাহাজগুলোকে ওমানের উপকূল ঘেঁষা বিকল্প পথে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের বিমান হামলার উদ্দেশ্য শুধু প্রতিশোধ নয়, বরং ইরানের সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য পদক্ষেপের সুযোগ তৈরি করা।
গোলমেশিনের আড়ালের জীবন: কেমন কাটে নরওয়ের তারকা ফুটবলার আর্লিং হলান্ডের দিন?
সংঘাত কোথায় গড়াবে?
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। প্রয়োজনে স্থল অভিযানসহ বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের বিষয়েও তিনি সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি।
ইরানের সামরিক কর্মকর্তারাও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তাহলে পুরো অঞ্চলে এর জবাব দেওয়া হবে।
মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষকরা বলছেন, দুই পক্ষই বর্তমানে সীমিত সংঘাতের মধ্যে রয়েছে। তবে এই পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে উভয় পক্ষের সামনে দুটি পথ থাকবে—হয় সংঘাত কমানো, নয়তো আরও বড় যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাওয়া।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন নাগরিক মুক্তির ঘটনা কূটনৈতিক আলোচনার একটি সম্ভাব্য পথ খুলে দিয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালি, সামরিক হামলা ও পাল্টা হুমকির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবস্থায় রয়েছে।
Post Views: 4