এসএসসির ফল প্রকাশ: ১১ বোর্ডে পাস ৬২.২৫%, শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান বেড়ে ৩১২
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। একই সঙ্গে বেড়েছে কোনো শিক্ষার্থী পাস না করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা। এবার দেশের ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি।
গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে শূন্য পাসের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ১৩৪টি। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ১৭৮টি। বিষয়টি শিক্ষা খাতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ফল প্রকাশের কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ সময় দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান নিজ নিজ বোর্ডের পরীক্ষার ফল শিক্ষামন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন।
আরও পড়ুন: জগন্নাথপুরে এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার প্রথম দিনে অনুপস্থিত ৩০
১১ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ।
ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে শুরু হয়েছে ফলাফল নিয়ে আলোচনা। অনেক শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত ফল পেয়ে সন্তুষ্ট হলেও অনেকে আশানুরূপ ফল না পাওয়ায় হতাশ হয়েছেন।
আরও পড়ুন: এক দেশ, এক প্রশ্নপত্রে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী
সবচেয়ে বেশি শূন্য পাস মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে
এবার শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠান। এই বোর্ডের ২২৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।
এ ছাড়া দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন ৫৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন ২৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী এবার পাস করতে পারেনি।
অর্থাৎ, তিন ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা মিলিয়ে মোট ৩১২টি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করেছে।
আরও পড়ুন: দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী চয়ন এবার ডিগ্রি ফাইনাল পরীক্ষায়, শ্রুতি লেখনে পাশে বন্ধু
এক বছরে শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ১৭৮টি
২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় শূন্য পাসের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ১৩৪টি। এবার সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১২টিতে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ১৭৮টি।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস না করা শিক্ষার মান, শিক্ষক সংকট, পাঠদানের পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনার মতো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও পিছিয়ে থাকা এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
ফলাফল বিশ্লেষণের ওপর গুরুত্ব
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পাবলিক পরীক্ষা। এই পরীক্ষার ফলাফল শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শিক্ষাজীবনে ভর্তি, বিষয় নির্বাচন এবং উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তাই শুধু সামগ্রিক পাসের হার দিয়ে শিক্ষার মান নির্ধারণ না করে বোর্ডভিত্তিক ফলাফল, জিপিএ-৫ পাওয়ার হার, অকৃতকার্যের হার এবং শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া হলে কোন কোন কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত ফল করতে পারেনি, তা চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক প্রশিক্ষণ, একাডেমিক তদারকি, নিয়মিত ক্লাস, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মধ্যে ফল নিয়ে ব্যস্ততা
ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে শুরু হয়েছে ফলাফল জানার ব্যস্ততা। অনলাইনে ফলাফল দেখার পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও শিক্ষার্থীরা ভিড় করছেন।
এবারের ফলাফলে একদিকে যেমন সামগ্রিক পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, অন্যদিকে শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান বেড়ে যাওয়ায় বিষয়টি শিক্ষা খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, ফলাফল ভালো করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রকৃত জ্ঞান, দক্ষতা ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত শিক্ষাব্যবস্থার প্রধান লক্ষ্য। কোনো প্রতিষ্ঠানে একটিও শিক্ষার্থী পাস না করার ঘটনা যাতে পরবর্তী বছরগুলোতে পুনরাবৃত্তি না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
চলতি বছরের ফলাফলের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ প্রকাশের পর কোন বোর্ডে পাসের হার কত, জিপিএ-৫ কতজন পেয়েছে এবং কোন কোন অঞ্চলে শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান বেশি—এসব বিষয় আরও স্পষ্ট হবে। তখন শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগও তৈরি হবে।

