দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী চয়ন এবার ডিগ্রি ফাইনাল পরীক্ষায়, শ্রুতি লেখনে পাশে বন্ধু
অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর শিক্ষার প্রতি প্রবল আগ্রহ থাকলে কোনো প্রতিবন্ধকতাই যে স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না, তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী চয়ন তালুকদার। তিনি এবার জগন্নাথপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে ডিগ্রি (পাস) তৃতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।
জগন্নাথপুরে এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার প্রথম দিনে অনুপস্থিত ৩০
রোববার (১৯ জুলাই) জগন্নাথপুরের আব্দুস সোবহান উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বন্ধুর সহায়তায় শ্রুতি লেখন (Scribe) পদ্ধতিতে পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। চয়ন জগন্নাথপুর পৌরসভার ভবানীপুর গ্রামের নিতাই তালুকদারের ছেলে।
আইএমএফের সঙ্গে নতুন অর্থনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা: কেন নতুন চুক্তির পথে বাংলাদেশ?
পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার আগে চয়ন তালুকদার বলেন, ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল। জন্মগতভাবে দুই চোখে দেখতে না পারলেও কখনো হাল ছাড়েননি। সমবয়সী ছোট বোনের সহযোগিতায় তিনি পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। বোন যখন পড়তে বসতেন, তখন পাশে বসে শুনে শুনেই তিনি পাঠ আয়ত্ত করতেন। পরে সেই উত্তর অন্যজন লিখে দিত। এভাবেই তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়ে ডিগ্রি পর্যায়ে ভর্তি হন।
জগন্নাথপুরে হাফিজ সৈয়দ নাঈমের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন
কলেজ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় শিক্ষা বোর্ডের অনুমতি নিয়ে এবারও তিনি শ্রুতি লেখন পদ্ধতিতে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। তাঁর উত্তরপত্র লিখে দিচ্ছেন বন্ধু জাহেদ মিয়া। এর আগে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় তাঁর শ্রুতি লেখক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বন্ধু মাজহারুল ইসলাম।
শ্রুতি লেখক জাহেদ মিয়া বলেন, “চয়ন উত্তর বলে দেয়, আমি শুধু খাতায় লিখে দিই। এতে আমার কোনো অসুবিধা হয় না। সে খুবই মেধাবী। তাকে সহযোগিতা করতে পেরে আমি আনন্দিত।”
চয়নের বাবা নিতাই তালুকদার বলেন, “জন্ম থেকেই চয়নের দুই চোখ অন্ধ। তবে পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহ সবসময়ই ছিল। ভাই-বোন এবার একসঙ্গে ডিগ্রি পরীক্ষা দিচ্ছে। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে তাদের পড়াশোনার খরচ জোগানো কঠিন হলেও আমরা স্বপ্ন পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।”
জগন্নাথপুরে লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন
জগন্নাথপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক সুরঞ্জিত কুমার সেন জানান, শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনের মাধ্যমে চয়নকে শ্রুতি লেখন পদ্ধতিতে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “চয়ন অত্যন্ত অধ্যবসায়ী একজন শিক্ষার্থী। আমরা তার সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি।”
চয়নের এই সংগ্রামী জীবনগাথা প্রমাণ করে, প্রতিকূলতা নয়, দৃঢ় মনোবল ও অধ্যবসায়ই মানুষের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

