আইনমন্ত্রীর লেখা রায় পড়ে শোনাচ্ছেন বিচারকরা: হাসনাত আবদুল্লাহ
সংবাদ সম্মেলনে মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেছেন, বিএনপি সরকার পুলিশকে দলীয় অনুগত বাহিনীতে পরিণত করছে, ঠিক যেভাবে পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকার করেছিল। একই সঙ্গে বিচার বিভাগীয় সচিবালয় বিলুপ্ত করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতাও ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
সোমবার সন্ধ্যায় ঝিনাইদহের পায়রা চত্বরে জেলা এনসিপি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ দাবি করেন, বর্তমানে বিচারকরা স্বাধীনভাবে রায় না দিয়ে আইনমন্ত্রীর লেখা রায় পড়ে শোনাচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করেন, আদালতকে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে এনে বিচারকদের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আদালতের রায় প্রভাবিত করা হচ্ছে।
গত ২২ মে নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপের ঘটনায় ছাত্রদলের দায়ের করা মামলা ও পরবর্তী পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
আরও পড়ুন: ইউএনওদের সততা, দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
হাসনাত বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশ ও বিচার ব্যবস্থার আচরণ দেখে মনে হচ্ছে জুলাই অভ্যুত্থানের পর বাস্তবে কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রীর সামনে একটি রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেছেন।
তিনি বলেন, “পুলিশ কখনোই কোনো রাজনৈতিক দলের হতে পারে না।”
জাতীয় নাগরিক পার্টির এই নেতা আরও দাবি করেন, পদোন্নতি ও বদলির ভয় দেখিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আওয়ামী লীগের “দাস” হিসেবে কাজ করার অতীত ভুলের পুনরাবৃত্তি না করার আহ্বান জানান।
ঝিনাইদহের ঘটনাকে স্থানীয় বিষয় হিসেবে না দেখে কেন্দ্র থেকে পরিচালিত ঘটনা হিসেবে দেখার আহ্বান জানান হাসনাত। তিনি এনসিপি নেতা তারেক রেজার গ্রেপ্তার এবং নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীর ওপর হামলার পর আট ঘণ্টা মামলা না নেওয়ার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় যুবশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত রশিদ, জামিনে মুক্ত এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজাসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
আরও পড়ুন: দেশজুড়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় অভিযান জোরদার, অপরাধ দমনে সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত



