রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ: কী ঘটেছে, কেন ঘটেছে এবং এরপর কী

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

প্রকাশিত: 10:11 PM, July 24, 2026 | আপডেট: 12:32:PM, August 4, 2026

 

 

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণ উল্লেখ করে তিনি স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এর মধ্য দিয়ে তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর আগেই রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয়ে গেল।

 

 

 

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল ৫টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে স্পিকার আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন এবং বিষয়টি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে জানান।

 

 

 

 

 

বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে শপথ গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবেন।

 

 

 

উল্লেখ্য, মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা থাকলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি নির্ধারিত সময়ের আগেই পদত্যাগ করেন।

 

 

 

রাষ্ট্রপতির দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি গুরুতর স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছিলেন। বিশেষ করে Autonomic Neuropathy-জনিত জটিলতার কারণে মাঝে-মধ্যে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়তেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ এবং শারীরিক অবস্থার অবনতির প্রেক্ষাপটেই তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।

 

 

 

রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের এপ্রিলে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, তাকে ঘিরে বিভিন্ন বিতর্ক এবং স্বাস্থ্যগত সীমাবদ্ধতার কারণে পদত্যাগের বিষয়টি আলোচনায় আসে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, শারীরিক অসুস্থতাই পদত্যাগপত্রে উল্লেখিত প্রধান কারণ হলেও রাজনৈতিক চাপের বিষয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।

 

 

 

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে সংবিধানের বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

 

 

 

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ঘটনাকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এ ঘটনাকে ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করছে। সরকার বিষয়টিকে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে বিরোধী মহলের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়েও নানা মন্তব্য করা হচ্ছে।

 

 

 

বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ফলে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায় কোনো শূন্যতা সৃষ্টি হবে না। কারণ সংবিধানে এ ধরনের পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনের সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। তবে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা আরও জোরদার হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

 

 

 

আরও পড়ুন: দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) আন্দোলন: সংঘর্ষ, দাবি ও সর্বশেষ পরিস্থিতি

আরও পড়ুন: শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা: ডিসেম্বরে আত্মসমর্পণের প্রস্তুতির কথা জানালেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী

আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমার ও আরাকান আর্মির সঙ্গে সংলাপে কাজ করছে সরকার: খলিলুর রহমান

আরও পড়ুন: সাবেক স্পিকার, সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই

আরও পড়ুন: রূপপুরের ‘মিনি রাশিয়া’ পারমাণবিক স্বপ্নের ছায়ায় এক বহুসাংস্কৃতিক জনপদের গল্প