সাভারে এনসিপির সমাবেশে বোমা হামলা: ‘প্রশাসনের সহায়তায় হামলা হয়েছে’—অভিযোগ নাহিদের
বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত চারজন আহত
সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র সমাবেশে দেশীয় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হওয়ার পর প্রশাসনের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি দাবি করেন, এ হামলা “প্রশাসনের সহায়তায়” সংঘটিত হয়েছে।
সোমবার রাতে সাভার মডেল থানার সামনে সাংবাদিক ও নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে এবং সেই কর্মসূচির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশ ও প্রশাসনের দায়িত্ব। কিন্তু প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।
বিস্ফোরণের পর এনসিপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সাভার মডেল থানার সামনে অবস্থান নেন। সেখানে নাহিদ বলেন, কারা হামলা চালিয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে এর দায় প্রশাসন এড়াতে পারে না। তিনি পুলিশের কাছে জানতে চান, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং হামলাকারীরা কীভাবে বোমা হামলা চালাতে সক্ষম হলো।
নাহিদ আরও অভিযোগ করেন, এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় তাদের জানা রয়েছে। তিনি বলেন, জনগণের পক্ষে কথা বলার আন্দোলনকে ভয় দেখিয়ে বা হামলা চালিয়ে থামানো যাবে না।
তিনি নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণভাবে থানার সামনে অবস্থান করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি প্রতিনিধি দল পুলিশের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার জবাবদিহি ও বিচার দাবি করবে।
এদিকে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরণে আহত অন্তত চারজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে দু-তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় অস্ত্রোপচারের জন্য নেওয়া হয়েছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, হামলার পরও এনসিপির পূর্বঘোষিত দেশব্যাপী কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, “পাঁচজন থাকলেও আমরা মানুষের পক্ষে কথা বলব। সেই পাঁচজনই একসময় পাঁচ হাজার, পাঁচ লাখে পরিণত হবে।”
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: দফায় দফায় পুলিশের বাধা, হবিগঞ্জের মিরপুরে সড়কে বসে অবস্থান নিলেন এনসিপির শীর্ষ নেতারা



