শেষ মুহূর্তে কোরবানির হাটে ‘বৃষ্টির বিঘ্নতা’ বিপাকে ক্রেতা-বিক্রেতা সবাই
এতে করে কমছে বেচাকেনাও
জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি::
প্রবাসী অধ্যুষিত সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে শেষ মুর্হূতে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। তবে গত দুই তিনদিনের ভারী বৃষ্টিপাতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতা সবাই। এতে করে কমছে বেচাকেনাও।
গতকাল সোমবার জগন্নাথপুরের প্রাচীনতম রানীগঞ্জ বাজারে বসে পশুরহাট। এই হাটটি ছিল ঈদের অন্যতম প্রধান হাট। যেকারণে প্রত্যাশা ছিল বেশি। কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যাপারীরা গরু, ভেড়া ও ছাগল নিয়ে বৃষ্টি উপেক্ষা কওে হাটে এসেছেন। সকাল থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়। সকালের দিকে বাজার এক প্রকার ক্রেতা শুন্য পড়ে। তবে দুপুর থেকে ধীরে ধীরে ক্রেতার উপস্থিত বাড়তে থাকে। বিকেলের দিকে বৃষ্টি কমে যাওয়ায় বাজার জমে উঠে।
হাট ঘুরে গরু নিয়ে আসা ব্যাপারী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজকের হাটকে ঘিরে তাদের অনেক প্রত্যাশা ছিল। কারণ জগন্নাথপুরের প্রাচীনতম এই হাটে যুগ যুগ ধরে ক্রেতাদের সমাগম ঘটে আসছে। ঐতিহ্যবাহী এ বাজারে বেচাবিক্রিও ভালো হয়। কিন্তুু গতকাল দিনভর ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ক্রেতার উপস্থিতি কমে যাওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী বিক্রি হয়নি।
ক্রেতাদের অভিযোগ, এবার কোরবানির হাটে গবাদিপশুর দাম বেশি। গত বছর যে গরু ৬০ হাজার টাকায় ক্রয় করা গেছে, এবার ওই সাইজের গরু ৭৫ থেকে ৮০ হাজার টাকা। প্রতি সাইজের একেকটি গরু ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা দাম বেড়েছে।
হাটে কথা হয় গরু কিনতে আসা আব্দুস সালাম নামের এক ক্রেতার সঙ্গে। তিনি বললেন, দুপুরের দিকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে এসেছি হাটে। দুর্যোগের মধ্যেও হাটে পশুর দাম কমে নেই। গত বছরের চেয়ে এবার দাম বেশি। এখনও কিনতে পারি নি, বাজার ঘুরে দেখছি। চাহিদা অনুযায়ী পেলে কিনব। না হয় শেষ বাজার বুধবারে কিনব।
জুয়েল মিয়া নামের আরেক ক্রেতা বলেন, চাহিদা অনুয়ায়ী দামে গরু মিলছে না। হাট ঘুরতে ঘুরতে অবশেষে একটি মাঝাড়ি সাইজের গরু ৯৫ হাজার টাকায় কিনেছি।
কিশোরগঞ্জ থেকে ২০টি গরু নিয়ে হাটে এসেছেন ব্যাপারী আনা মিয়া। তিনি বলেন, কোরবানির ঈদকে সামনে দুই দিন আগে জগন্নাথপুরে এসেছি। এ দু’দিনই দিনের অধিকাংশ সময় বৃষ্টির কারণে তেমন বেচাকেনা হয়নি। রোববারের হাটে মাত্র একটি গরু বিক্রি করেছি। আজকের (গতকাল) হাটকে ঘিরে প্রত্যাশা বেশি ছিল। কিন্তুু দিনভর ভারী বর্ষণে বাজার জমেনি। তবে বিকেল থেকে জমে উঠেছে। এখন পর্যন্ত ৩ টি বিক্রি হয়েছে।
আলাউদ্দিন নামের আরেক ব্যাপারী বলেন, জগন্নাথপুরের কোরবানির ঈদের শেষ দিকে বাজার জমে উঠে। কিšু‘ গত কয়েকদিনের বৃষ্টির কারণে হাটগুলো প্রায় ক্রেতা শুণ্য হয়ে পড়ে। এখন পুরোদমে ব্যবসার সময়। এই সময়ে বৃষ্টিতে বিপাকে পড়েছি আমরা। দাম চড়া ক্রেতাদের এমন অভিযোগ নিতে অস্বীকার করেছেন এই বিক্রেতা।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসলাম উদ্দিন বলেন জগন্নাথপুরে স্থায়ী দুই কোরবানির হাট রয়েছে। এছাড়া অস্থায়ীভাবে ১০টি হাট ইজারা দেয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি হাট তদারকি ও নজরদারি করা হচ্ছে। সরকারী নির্দেশনা অমান্য করে কেউ অবৈধভাবে হাট বসালে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

