মৌলভীবাজার–হবিগঞ্জে বন্যার পানি কমলেও কাটেনি দুর্ভোগ, পানিবাহিত রোগের শঙ্কা

মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে ধীরে ধীরে পানি কমতে শুরু করেছে।

প্রকাশিত: 1:23 AM, July 13, 2026 | আপডেট: 1:23:AM, July 13, 2026

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

 

 

টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে ধীরে ধীরে পানি কমতে শুরু করেছে। তবে পানি নামলেও হাজারো পরিবারের দুর্ভোগ এখনো কাটেনি। অনেক এলাকায় কাঁচা সড়ক, গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা, কৃষিজমি ও মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুরোপুরি ফিরতে সময় লাগবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

 

 

বান্দরবানে টানা বৃষ্টিতে ১০ জুলাই পর্যন্ত সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ

 

 

 

মৌলভীবাজারে মনু ও ধলাই নদীর পানি কমলেও নিচু এলাকার অনেক বাড়িঘর ও আঙিনা এখনো জলমগ্ন। সাম্প্রতিক বন্যায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। অনেক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্র অথবা স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পানি নামতে শুরু করায় কেউ কেউ নিজ বাড়িতে ফিরলেও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। কৃষকের আমন বীজতলা, শাকসবজির ক্ষেত এবং পুকুরের মাছের ব্যাপক ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে।

 

 

‘সিলেটের কোন পাথর কোয়ারি আর খোলা হবে না’

 

 

 

হবিগঞ্জেও খোয়াই ও কুশিয়ারা নদীর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। তবে অনেক গ্রামীণ সড়ক কাদায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় নলকূপ ডুবে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। পানি কমলেও বহু পরিবার এখনও ঘরবাড়ি পরিষ্কার ও বসবাসের উপযোগী করতে ব্যস্ত সময় পার করছে।

 

 

 

বিশ্বকাপে সেমিফাইনালের উত্তেজনা, শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি চার পরাশক্তি

 

 

 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ডায়রিয়া, জ্বর, চর্মরোগ ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই নিরাপদ পানি পান, খাবার ভালোভাবে রান্না করা এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ। স্থানীয় হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

 

সাবেক স্পিকার, সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই

 

 

এদিকে জেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পানি পুরোপুরি নেমে যাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তালিকা প্রস্তুত করে পুনর্বাসন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। একই সঙ্গে আবহাওয়ার পূর্বাভাসের ওপর নজর রেখে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

 

 

 

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের আশা, আগামী কয়েক দিনে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিক থাকলে নদ-নদীর পানি আরও কমবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা দ্রুত ফিরে আসবে। তবে পুনরায় ভারী বৃষ্টি হলে নিম্নাঞ্চলে আবারও পানি বাড়ার আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।