আলোচিত রামিসা হত্যা: দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে — আইনমন্ত্রী

রামিসার বাবা বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থা হারাচ্ছেন

প্রকাশিত: ৫:১৯ অপরাহ্ণ, মে ২১, ২০২৬ | আপডেট: ৫:১৯:অপরাহ্ণ, মে ২১, ২০২৬

 

 

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজধানী ঢাকার পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে নৃশংস ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিতে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ যথাযথ ভাবে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

 

 

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, “শিশুটার জন্য সবার মন খারাপ। বিচারটা যেন ঝুলে না থাকে, সেটাই এখন সরকারের মাথাব্যথা।”

 

 

২০ মে বুধবার রাজধানীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইনমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক শিশু নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় মানুষের ধৈর্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

 

 

 

তার ভাষায়, “দেখেন, আছিয়ার পর আবার রামিসা। মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙছে। আমাদের হাতে যা আছে, সবটুকু করব। দ্রুত চার্জশিট, দ্রুত ট্রায়াল—যেভাবে পারি।”

 

 

আইনমন্ত্রী জানান, ঘটনার তদন্ত দ্রুত শেষ করতে তিনি ইতোমধ্যে পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছেন। তদন্ত প্রতিবেদন এক সপ্তাহের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

রামিসার বাবা বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থা হারাচ্ছেন—এমন অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “বাবার রাগ-অভিমান ফেলে দেওয়া যায় না। তার জায়গায় আমি থাকলেও একই কথা বলতাম। বিচারব্যবস্থার গতি নিয়ে মানুষের ক্ষোভ আছে, মানি। ওই জটটা খুলতেই হবে।”

 

 

তিনি উদাহরণ হিসেবে আছিয়া হত্যা মামলার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “সাত দিনে চার্জশিট, এক মাসে বিচার শেষ—ওই গতিতেই রামিসার মামলাটাও করতে চাই।”

 

 

 

তবে তিনি স্বীকার করেন, উচ্চ আদালতের কিছু প্রক্রিয়াগত জটিলতা বিচার দ্রুত সম্পন্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

 

মন্ত্রী বলেন, “ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে যাবে। সেখানে পেপার বুক, শুনানির তারিখ—এসব নিয়ম আছে। আমি নিজে মনে করি এটা ভুল সিস্টেম। গুরুত্ব বুঝে ফাইল আগে তোলা দরকার। এটা নিয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলব।”

 

রামিসার বাবার হতাশার বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, “আমরা কাজে প্রমাণ দিয়েই দেব।”

 

গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর মিরপুর–১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের সাত নম্বর সড়কের ৩৯ নম্বর বাড়ির একটি ফ্ল্যাট থেকে রামিসা আক্তারের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

পুলিশ জানায়, শিশুটিকে হত্যার পর তার মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। বিচ্ছিন্ন মাথাটি শৌচাগারে এবং শরীরের বাকি অংশ খাটের নিচে পাওয়া যায়।

 

এ ঘটনায় অভিযুক্ত সোহেল রানা ঘটনার পর শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে ঘটনাস্থল থেকেই তার স্ত্রীকে আটক করা হয়।

 

নিহত রামিসা স্থানীয় একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা একটি রিক্রুটিং এজেন্সিতে চাকরি করেন। মা পারভীন আক্তারের দুই মেয়ের মধ্যে রামিসা ছিল ছোট। বড় মেয়ে রাইসা স্থানীয় একটি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী।

 

 

 

 

উল্লেখ্য পরিবারটি প্রায় ১৭ বছর ধরে পল্লবীর ওই এলাকায় বসবাস করে আসছিল। পাশের ফ্ল্যাটের একটি কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয় রামিসার মরদেহ।