‘আমি ধর্ষণ করেছি, তবে হত্যা করেছে ডলার’—সাংবাদিকদের সামনে দাবি রামিসা হত্যা মামলার আসামি সোহেলের

প্রকাশিত: ৩:৩৫ অপরাহ্ণ, জুন ১, ২০২৬ | আপডেট: ৩:৩৫:অপরাহ্ণ, জুন ১, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:

 

 

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা দাবি করেছেন, তিনি ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত থাকলেও হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন ‘ডলার’ নামে অপর এক ব্যক্তি।

 

 

 

আজ সকালে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির করার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ দাবি করেন।

 

 

সোহেল বলেন, “আমার অপরাধ আছে, তবে আমি একা দায়ী নই। আমি ধর্ষণ করেছি, আর ডলার হত্যা করেছে।”

 

 

 

মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমের মধ্যে এই প্রথম ‘ডলার’ নামটি প্রকাশ্যে আসে। তবে ওই ব্যক্তির পরিচয় বা তার বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

 

 

 

এ সময় সোহেল আরও দাবি করেন, তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন নির্দোষ এবং ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

 

 

 

এর আগে সকালে সোহেল রানা (৩১) ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে (২৬) ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় আনা হয়। পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকিন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

 

 

 

আদালতে অভিযোগ পড়ে শোনানো হলে দুই আসামিই নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বিচার চান। ট্রাইব্যুনাল আগামীকাল থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে নিহত রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে।

 

 

 

গত ২৪ মে পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওহিদুজ্জামান তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা ও আলামত নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে আলামত নষ্ট ও মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

 

পরে মামলাটি বিচারের জন্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

 

 

গত ১৯ মে পল্লবীতে প্রতিবেশী সোহেলের বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসার শিরশ্ছেদ করা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের দাবি, ধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে অপরাধ গোপনের উদ্দেশ্যে মরদেহ খণ্ডিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

 

 

ঘটনার পরদিন রামিসার বাবা পল্লবী থানায় সোহেল, স্বপ্না এবং অজ্ঞাতনামা আরও একজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

 

 

এদিকে মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় গত ২২ মে ঢাকা আইনজীবী সমিতি অভিযুক্তদের পক্ষে কোনো আইনগত সহায়তা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরদিন ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুসা কালিমুল্লাহকে রাষ্ট্রীয় খরচে আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেয়।