চট্টগ্রামে বন্যায় প্রায় ৭ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, পুনর্বাসনের কাজ শুরু
পুনর্বাসন কার্যক্রমও শুরু করা হয়েছ
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক বন্যায় প্রায় ৭ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি পুনর্বাসন কার্যক্রমও শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণকালে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য চাল, রান্না করা খাবার ও শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে যেসব পরিবার বন্যায় ঘরবাড়ি, কৃষি ও অন্যান্য সম্পদ হারিয়েছে, তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত তীব্র, তবে মার্কিন নাগরিক মুক্তিতে কূটনৈতিক সমাধানের ইঙ্গিত
পানিতে বিপর্যস্ত জনজীবন
টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অনেক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট, কৃষিজমি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পানির কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।
বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ ও আশ্রয়ের সংকটে পড়ে। অনেক এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত সংস্কারের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা-স্পেন: টানা দ্বিতীয়বার শিরোপার লড়াইয়ে আলবিসেলেস্তেরা
ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত
সরকারের পক্ষ থেকে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এরই মধ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষের মধ্যে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী চাল, শুকনো খাবার ও রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তা নয়, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বন্যায় যাদের ঘরবাড়ি ও জীবিকার ক্ষতি হয়েছে, তাদের সহায়তায় কার্যক্রম চলমান থাকবে।
দেশজুড়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় অভিযান জোরদার, অপরাধ দমনে সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত
ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতের উদ্যোগ
বন্যার কারণে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে স্থানীয় মানুষের চলাচল ও পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। এসব সড়ক দ্রুত মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং কয়েকটি স্থানে কাজ শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও অনেক এলাকায় কাদা, ধ্বংসস্তূপ ও ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন রয়ে গেছে। কৃষকরা ফসলের ক্ষতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। অনেক পরিবার নতুন করে ঘর গোছানোর চেষ্টা করছে।
বান্দরবানে টানা বৃষ্টিতে সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ
কৃষি ও জীবিকার ক্ষতি
বন্যার প্রভাবে কৃষি খাতেও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনেক কৃষকের জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। গবাদিপশু ও মাছের ঘেরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও কাজ চলছে।
দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবিকা পুনরুদ্ধার করা। শুধু খাদ্য সহায়তা নয়, কৃষি, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও ঘরবাড়ি পুনর্গঠনে সহায়তা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে ভয়াবহ ভূমিধস, নিহত ৮
পুনর্বাসনে গুরুত্ব
অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকে যথাযথভাবে পুনর্বাসন না করা পর্যন্ত সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও দুর্গত মানুষের পাশে কাজ করছে।
চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখন মূল লক্ষ্য হচ্ছে—ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়া, যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা।

