চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন্যা মোকাবিলায় সরকারের ১০ দফা জরুরি উদ্যোগ

প্রকাশিত: 8:32 PM, July 10, 2026 | আপডেট: 8:32:PM, July 10, 2026

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ১০ দফা জরুরি কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও পার্বত্য জেলার কয়েকটি এলাকায় পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। নিম্নাঞ্চলের অনেক বসতবাড়িতে পানি প্রবেশ করায় পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন।

১০ দফা উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে—ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত সরিয়ে নেওয়া, পর্যাপ্ত শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, অস্থায়ী চিকিৎসা কেন্দ্র চালু, বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ, নদীর পানি বৃদ্ধি সম্পর্কে সতর্কবার্তা প্রচার, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখা, গবাদিপশুর নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা, শিশু ও নারীদের জন্য বিশেষ সহায়তা এবং ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি এখনও রয়েছে। প্রশাসন স্থানীয় জনগণকে অপ্রয়োজনে পাহাড়ি এলাকায় না যেতে এবং নদীসংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অনেক এলাকায় পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তবে প্রশাসনের তৎপরতা ও আগাম সতর্কতার কারণে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সরকারের জরুরি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।