দেশের সব শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিক্ষামন্ত্রী এএনএম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, জাতীয় পরীক্ষাব্যবস্থায় সমতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতেই এই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
আজ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং ‘স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী’ কর্মসূচি উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “একটি শিক্ষা বোর্ড তুলনামূলক সহজ প্রশ্ন করে, আবার অন্য বোর্ড কঠিন প্রশ্ন করে। এক বাংলাদেশে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নপত্রে হতে পারে না।” তিনি জানান, পরীক্ষাব্যবস্থায় সামঞ্জস্য আনার লক্ষ্যেই একক প্রশ্নপত্র চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ও-লেভেল ও এ-লেভেল পরীক্ষার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেশভেদে পরিবর্তিত হয় না। একইভাবে দেশের সব বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্র চালু করা হলে শিক্ষার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হবে।
প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত ভর্তি পরীক্ষা হবে খুবই সাধারণ এবং এর জন্য শিশুদের কোচিংয়ের প্রয়োজন হবে না। এছাড়া স্কুলে ভর্তি প্রক্রিয়ায় ‘ক্যাচমেন্ট এরিয়া’ বা নির্ধারিত এলাকার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়েও সরকার কাজ করছে। তবে ভর্তি ব্যবস্থা কেন্দ্রীভূত হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, সরকার একই সঙ্গে কিরাত ও সংগীত প্রতিযোগিতা, নৈতিক শিক্ষা, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং ধর্মীয় শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করছে। শিক্ষক সংকট নিরসনে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা নেওয়া হবে এবং জেলা পর্যায়ের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা উপজেলা ক্লাস্টারের মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোকে সহায়তা করতে পারবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদি আমিন বলেন, সরকার সমতা, নাগরিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা, ব্যবহারিক দক্ষতা ও বাস্তবমুখী শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে নতুন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়।
তিনি জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা ও সংস্কৃতি নতুন বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘আনন্দময় শিক্ষা’ এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাও চালু করা হবে।
মাহদি আমিন বলেন, সংস্কৃতি বলতে শুধু গান ও নাচ নয়; পাঠাভ্যাস, সুন্দর হাতের লেখা, আবৃত্তি, কবিতা, গল্প বলা, বিতর্ক ও চারুকলাও এর অন্তর্ভুক্ত হবে। খেলাধুলার মধ্যে থাকবে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, দাবা ও সাঁতারসহ বিভিন্ন ইভেন্ট।
তিনি জানান, গত ৬ এপ্রিল শুরু হওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে দেশের ৬৫ হাজার ৩৪২টি বিদ্যালয় থেকে ১১ লাখের বেশি ছেলে এবং ১১ লাখের বেশি মেয়ে অংশগ্রহণ করেছে। টুর্নামেন্টের ফাইনাল আগামী ২০ জুন আর্মি ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, চ্যাম্পিয়ন দলগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট ফুটবল সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করছে সরকার।
এদিকে ‘স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী’ কর্মসূচির চূড়ান্ত পর্ব আগামী ২৯ জুন বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে।

