জুমার দিনের ফজিলত ও মুসলমানের করণীয়

জুমার দিনের ১১টি আমল

প্রকাশিত: 1:18 AM, July 17, 2026 | আপডেট: 1:18:AM, July 17, 2026


মহান আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর জন্য জুমার দিনকে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ দিন হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এটি সাপ্তাহিক ইবাদতের এক মহিমান্বিত দিন। পবিত্র কোরআনে ‘সূরা আল-জুমুআ’ নামে একটি স্বতন্ত্র সূরা নাজিল হয়েছে, যা এই দিনের গুরুত্বকে আরও সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—

فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِن فَضْلِ اللَّهِ وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

অর্থ: “অতঃপর যখন নামাজ সমাপ্ত হবে, তখন তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো, আল্লাহর অনুগ্রহ অনুসন্ধান করো এবং আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।”
(সূরা আল-জুমুআ, আয়াত: ১০)

জুমার দিনের ১১টি আমল

ইসলামে জুমার নামাজের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষদের জন্য নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে জুমার নামাজ ফরজ। এ নামাজ আদায়ের মাধ্যমে মুসল্লিরা সপ্তাহে একদিন একত্রিত হয়ে জামাতে অংশগ্রহণ করেন, খুতবা শোনেন এবং আল্লাহর স্মরণে আত্মনিয়োগ করেন।

ইসলামের সঙ্গে জীবনের সম্পর্ক

‘জুমুআ’ শব্দটি আরবি। এর অর্থ হলো একত্রিত হওয়া, সমবেত হওয়া বা সম্মিলিত হওয়া। প্রতি শুক্রবার নির্ধারিত সময়ে মুসলমানরা মসজিদে সমবেত হয়ে যোহরের পরিবর্তে দুই রাকাত ফরজ জুমার নামাজ আদায় করেন। এ কারণেই এ নামাজকে ‘জুমার নামাজ’ বলা হয়।

ইসলামের ইতিহাসে বর্ণিত আছে, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় হিজরতের পর আনসার সাহাবিদের মধ্যে সপ্তাহে একটি নির্দিষ্ট দিনে একত্রিত হয়ে ইবাদত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। ইহুদিদের জন্য শনিবার এবং খ্রিস্টানদের জন্য রোববার নির্ধারিত থাকায় মুসলমানদের জন্য শুক্রবারকে সম্মিলিত ইবাদতের দিন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে জুমার নামাজ ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিধান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

শুক্রবারের বিশেষ আমল ও ফজিলত

জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল

জুমার দিনকে আরও বরকতময় করতে ইসলাম বিভিন্ন আমলের প্রতি উৎসাহিত করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—

  1. ভোরে ঘুম থেকে ওঠা।
  2. বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করা।
  3. সম্ভব হলে আগে আগে মসজিদে যাওয়া।
  4. বেশি বেশি দোয়া করা, কারণ এ দিনে দোয়া কবুলের বিশেষ একটি সময় রয়েছে।
  5. অন্য মুসল্লিদের কষ্ট দিয়ে কাতার ভেঙে সামনে না যাওয়া।
  6. সূরা আল-কাহাফ তিলাওয়াত করা।
  7. জুমার নামাজের আগে গোসল করা।
  8. পরিচ্ছন্ন পোশাক পরা ও সুগন্ধি ব্যবহার করা।
  9. সম্ভব হলে হেঁটে মসজিদে যাওয়া।
  10. খুতবার সময় মনোযোগ দিয়ে নীরবে খুতবা শোনা।
  11. মসজিদে প্রবেশের পর তাহিয়্যাতুল মসজিদের নামাজ আদায় করা (যদি খতিব খুতবা শুরু না করে থাকেন; খুতবা চলাকালে এ বিষয়ে ফিকহভেদে ভিন্ন মত রয়েছে)।

 

শুক্রবার সূরা কাহাফ পড়ার ফজিলত

 

 

জুমার দিন শুধু একটি সাপ্তাহিক ছুটির দিন নয়; বরং এটি আত্মশুদ্ধি, ইবাদত, দোয়া, কোরআন তিলাওয়াত এবং মুসলিম সমাজের ঐক্য সুদৃঢ় করার এক অনন্য সুযোগ। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে জুমার দিনের মর্যাদা যথাযথভাবে রক্ষা করে আন্তরিকতার সঙ্গে ইবাদত করার তাওফিক দান করুন। আমিন