চীনের সাংহাইয়ে ওয়ার্ল্ড এআই কনফারেন্স অংশ নিলেন বাংলাদেশের আইসিটি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম
AI প্রযুক্তি, বৈশ্বিক সহযোগিতা ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
চীনের সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড এআই কনফারেন্স (WAIC) 2026-এ অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। চার দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান, প্রযুক্তিবিদ, গবেষক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিশেষজ্ঞরা অংশ নিচ্ছেন।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সাংহাইয়ে শুরু হওয়া এই সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ, বৈশ্বিক AI নীতিমালা, প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রামে বন্যায় প্রায় ৭ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, পুনর্বাসনের কাজ শুরু
এআই প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন মন্ত্রী
সম্মেলনের উচ্চপর্যায়ের Global Cooperation in AI Governance সভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশের আইসিটি মন্ত্রীর। সেখানে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং AI খাতে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন।
বিশ্বজুড়ে দ্রুত এগিয়ে চলা AI প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং ডিজিটাল অর্থনীতি সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে। এর আগে মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, AI দক্ষ জনশক্তি তৈরি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত, জাতীয় ইস্যুতে বাড়ছে গুরুত্ব
বিশ্বজুড়ে এআই নিয়ে নতুন আলোচনা
World AI Conference বিশ্বের অন্যতম বড় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক সম্মেলন। এখানে এআই গবেষণা, নতুন প্রযুক্তি, শিল্পক্ষেত্রে এআই-এর ব্যবহার এবং ভবিষ্যতের নীতিমালা নিয়ে আলোচনা হয়।
২০২৬ সালের সম্মেলনে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে—এআই প্রযুক্তি যেন মানবকল্যাণে ব্যবহার করা যায় এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধি পায়। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও গবেষণা সংস্থার প্রতিনিধিরা এতে অংশ নিয়েছেন।
আইএমএফের কাছে নতুন ঋণ কর্মসূচির আবেদন বাংলাদেশের
বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনার নতুন ক্ষেত্র
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের জন্য নতুন কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও শিল্প খাতে বড় সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজন দক্ষ জনবল, গবেষণা এবং আধুনিক প্রযুক্তি অবকাঠামো।
সরকার ইতোমধ্যে এআই বিষয়ে প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশের তরুণদের এআই, মেশিন লার্নিং ও আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা
সাংহাইয়ের এই সম্মেলনে মূল আলোচনার বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে এআই-এর নৈতিক ব্যবহার, তথ্য নিরাপত্তা, প্রযুক্তির সমতা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এআই সুবিধা নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে প্রযুক্তি খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্মেলনের মাধ্যমে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং এআই উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

