সিলেটে শিক্ষার মানোন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপির

প্রকাশিত: 11:26 PM, July 25, 2026 | আপডেট: 11:26:PM, July 25, 2026
ছবি সংগৃহীত

 

সিলেট প্রতিনিধি

 

 

সিলেট অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, যুগোপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি। তিনি বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে সিলেটের সম্ভাবনা অনেক হলেও কাঙ্ক্ষিত মান অর্জনে এখনও উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে। সেই ঘাটতি পূরণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

 

 

 

 

 

শনিবার (২৫ জুলাই) শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে ‘রাইজ’ (RISE) ও ‘ইউরো কিডস’ (Euro Kids) স্কুলের বার্ষিক গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

 

আন্দোলনের ডাক এলে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ার আহ্বান শফিকুর রহমানের, দাবি না মানলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

 

 

মন্ত্রী বলেন, একসময় সিলেটে মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভাব ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু বেসরকারি উদ্যোগ সেই পরিস্থিতির পরিবর্তনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। তিনি উদ্যোক্তা মিজানুর রহমান চৌধুরী ও ফয়সল আহমদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্টদের প্রশংসা করে বলেন, তাদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শিশুদের আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছে, যা সিলেটের শিক্ষা খাতের জন্য একটি ইতিবাচক সংযোজন।

 

সাত বছরেও শেষ হয়নি ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ, বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট

 

 

তিনি বলেন, একটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত দক্ষ, সৃজনশীল ও মানবিক নাগরিক তৈরি করা। কিন্তু বর্তমানে বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম ও মাদ্রাসা—এই তিন ধরনের শিক্ষাব্যবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দক্ষতা ও প্রস্তুতির পার্থক্য তৈরি হচ্ছে। এই বৈষম্য ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নানা চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে।

 

 

মৌলভীবাজার–হবিগঞ্জে বন্যার পানি কমলেও কাটেনি দুর্ভোগ, পানিবাহিত রোগের শঙ্কা

 

 

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন ধারার মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা সময়ের দাবি। বাংলা কিংবা ইংরেজি মাধ্যম—যে মাধ্যমেই পড়াশোনা হোক, শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সমমানের শিক্ষাগত ভিত্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল দক্ষতা ও কম্পিউটার শিক্ষাকে প্রাথমিক স্তর থেকেই বাধ্যতামূলকভাবে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

 

জগন্নাথপুর পৌরসভার ২২ কোটি ৫০ লাখ টাকার বাজেট পেশ

 

 

 

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্ব দ্রুত প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। তাই ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তি সম্পর্কে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করলেই হবে না, বরং বাস্তব জীবনের দক্ষতা অর্জনও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

 

জগন্নাথপুরে গৃহবন্দি থাকার পর মুক্তি পেলেন ৫ পরিবার

 

 

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রয়েল এডুকেয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান ফয়সল আহমদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বিশ্বমানের শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েই ‘রাইজ’ ও ‘ইউরো কিডস’ পরিচালিত হচ্ছে। এই দুই প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে সাফল্যের সঙ্গে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে, যা প্রতিষ্ঠানগুলোর মানসম্পন্ন শিক্ষার প্রমাণ বহন করে।

 

আগেরদিন স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া, পরেরদিন স্বামীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

 

 

রয়েল এডুকেয়ার লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। তাদের দক্ষ, সৃজনশীল ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণ সম্ভব হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং মানবিক মূল্যবোধ অর্জনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

 

 

 

 

ইউরো কিডসের অ্যাসিস্ট্যান্ট হেড সাবরিনা আক্তারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সেন্ট্রাল হেড রুশিনা আহমদ চৌধুরী এবং রাইজের অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ হেড জিনাত মোস্তফা।

 

 

 

 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খাইরুল ইসলাম, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. এনামুল হক, পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. জাবের সাদেক, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেইন চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, সহ-সভাপতি মাহবুব কাদির শাহিসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী চয়ন এবার ডিগ্রি ফাইনাল পরীক্ষায়, শ্রুতি লেখনে পাশে বন্ধু

 

 

 

অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় ছিল বর্ণিল ফ্যাশন শো, দেশাত্মবোধক আয়োজন, ব্যান্ড সংগীতের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি, ‘দ্য হ্যান্ডস দ্যাট বিল্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিশেষ পরিবেশনা, গ্র্যান্ড মিউজিক্যাল এবং ম্যাশআপ। পরে গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের সনদ প্রদান, কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ও স্মারক বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

 

 

 

 

 

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের সম্মিলিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে শিশুদের সৃজনশীলতা, নৈতিকতা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা একসঙ্গে বিকশিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।