হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে ১৯ দিনে মিলল ৪৭ লাখ টাকার বেশি, পাওয়া গেছে স্বর্ণ-রৌপ্য ও বিদেশি মুদ্রা

একটি গরু এবং ৬৫টি ছাগলের হিসাবও পাওয়া গেছে

প্রকাশিত: 10:01 PM, July 11, 2026 | আপডেট: 10:01:PM, July 11, 2026

 

সিলেট প্রতিনিধি:

 

সিলেটের ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক তীর্থস্থান হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্স (সিন্দুক) খোলার পর মাত্র ১৯ দিনের হিসাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ, স্বর্ণালংকার, রৌপ্য এবং বিভিন্ন দেশের মুদ্রা পাওয়া গেছে। মাজার কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ সময়ের মধ্যে দানবাক্স থেকে নগদ ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

 

এছাড়া দানের অর্থের সঙ্গে পাওয়া গেছে ৯ গ্রাম স্বর্ণ, স্বর্ণ সদৃশ বস্তু ১০ গ্রাম এবং রৌপ্য ৩৯ দশমিক ৪ গ্রাম। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মুদ্রাও পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ২০ ডলার, সৌদি আরবের ১৩৫ রিয়াল, ভারতের ২ হাজার ৫৩২ রুপি, কাতারের ২২ দিরহাম, মালয়েশিয়ার ৬ রিঙ্গিত, হংকংয়ের ২০ ডলার, ইউরোর ২০ ইউনিট, ওমানের ১ দশমিক ৪৫০ রিয়াল, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৫৪ দশমিক ২০ দিরহাম, ইন্দোনেশিয়ার ৪ হাজার রুপিয়া, পাকিস্তানের ৬০ রুপি এবং সিঙ্গাপুরের ১০ ডলার।

 

 

সিলেটের সোবহানীঘাট কামিল মাদ্রাসার বার্ষিক পাগড়ী প্রদান

 

শুধু নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নয়, মাজারে দান হিসেবে দেওয়া পশুও পাওয়া গেছে। এ সময় একটি গরু এবং ৬৫টি ছাগলের হিসাবও পাওয়া গেছে।

 

মাজার সূত্র জানায়, নিয়মিত সময় পরপর দানবাক্স খোলা হয় এবং বিপুলসংখ্যক ভক্ত ও দর্শনার্থীর দেওয়া অর্থ ও সামগ্রী গণনা করে হিসাব সংরক্ষণ করা হয়। এবার ১৯ দিনের ব্যবধানে দানবাক্স খুলে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদের হিসাব পাওয়া যায়।
এর আগে মাত্র তিন দিনের হিসাবেও মাজারের দানবাক্স থেকে প্রায় ১৭ লাখ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। ঐতিহাসিক এই মাজারে দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষ প্রতিদিন আসেন এবং নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী দান করেন। এসব দানের অর্থ মাজারের বিভিন্ন কার্যক্রম, রক্ষণাবেক্ষণ, ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহৃত হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

 

তবে সাম্প্রতিক সময়ে মাজারের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা পরিবর্তন ও জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। জেলা প্রশাসক (ডিসি) পরিবর্তনসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কারণে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হলেও নিয়ম অনুযায়ী দানবাক্স খোলা ও হিসাব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার সিলেটের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থাপনা। উপমহাদেশের প্রখ্যাত সুফি সাধক হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর স্মৃতিবিজড়িত এই স্থানে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আসেন। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত পর্যটক ও ভক্তদের কাছেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান।

 

 

 

সিলেটে তালামীযে ইসলামিয়ার মীলাদুন্নবী (সা.) র‌্যালি অনুষ্ঠিত

 

মাজারের প্রতি মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিফলন হিসেবেই নিয়মিতভাবে বিপুল পরিমাণ দান জমা হয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। দান করা প্রতিটি অর্থ ও সামগ্রীর স্বচ্ছ হিসাব সংরক্ষণ করা এবং যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তা পরিচালনা করাই মাজার কর্তৃপক্ষের অন্যতম দায়িত্ব।

 

সংশ্লিষ্টদের মতে, দানবাক্স থেকে পাওয়া অর্থ গণনার পুরো প্রক্রিয়া সাধারণত নির্ধারিত নিয়ম মেনে সম্পন্ন করা হয়। এতে মাজারের দায়িত্বশীল ব্যক্তি, প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকেন।

 

 

১৯ দিনের এই হিসাব আবারও প্রমাণ করে, হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের প্রতি মানুষের গভীর শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস রয়েছে। দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষের দান ও ভালোবাসায় এই আধ্যাত্মিক কেন্দ্রটি যুগের পর যুগ ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।