যোগ্যতা ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গঠনে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা
সেনাবাহিনীর একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী
দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও পেশাদার সেনাবাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে যুগোপযোগী ও দক্ষ বাহিনীতে পরিণত করতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত তীব্র, তবে মার্কিন নাগরিক মুক্তিতে কূটনৈতিক সমাধানের ইঙ্গিত
রোববার রাজধানীতে সেনাবাহিনীর একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীতে দক্ষ জনবল তৈরির পাশাপাশি উন্নত প্রশিক্ষণ, আধুনিক সরঞ্জাম এবং তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত, যুক্তরাষ্ট্র–ইরান পাল্টাপাল্টি হামলায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, একটি শক্তিশালী ও পেশাদার সেনাবাহিনী শুধু দেশের নিরাপত্তাই নিশ্চিত করে না, বরং দুর্যোগ মোকাবিলা, অবকাঠামো উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বিশ্বব্যাপী সুনাম অর্জন করেছে এবং ভবিষ্যতেও সেই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা ঘিরে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ, কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিরক্ষা খাতের আধুনিকায়নে ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ড্রোন প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল কমান্ড ব্যবস্থার মতো আধুনিক প্রযুক্তি ধীরে ধীরে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ফের তীব্র হামলা, কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আক্রমণে হতাহত
প্রধানমন্ত্রী সেনাসদস্যদের উদ্দেশে বলেন, দেশের প্রতি আনুগত্য, শৃঙ্খলা, সততা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের বিকল্প নেই। তিনি নতুন প্রজন্মের সেনা কর্মকর্তাদের আধুনিক যুদ্ধকৌশল, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং গবেষণামূলক কার্যক্রমের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আন্দোলনের ডাক এলে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ার আহ্বান শফিকুর রহমানের, দাবি না মানলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বিশ্বে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রচলিত যুদ্ধের পাশাপাশি সাইবার হামলা, প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং সীমান্ত নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। এ বাস্তবতায় আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ মানবসম্পদনির্ভর সেনাবাহিনী গড়ে তোলা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সিলেটে শিক্ষার মানোন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপির
সরকারের প্রত্যাশা, পরিকল্পিত আধুনিকায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভবিষ্যতের যেকোনো নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও সক্ষম হয়ে উঠবে এবং দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

