মানুষ পুড়িয়ে সরকার হঠানো যায় না : সিলেটে শেখ হাসিনা

প্রকাশিত: ১:২০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২১, ২০২৩ | আপডেট: ১:২০:অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২১, ২০২৩

 

জাহাঙ্গীর আলম খায়ের, সিলেট:

 

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি সন্ত্রাসীর দল। তাদের ধর্মই হচ্ছে মানুষ পুড়ানো, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ কায়েম করা। লন্ডনে বসে একটা কুলাঙ্গার নির্দেশ দেয়, আর বাংলাদেশে ওরা অগ্নি সন্ত্রাস করে মানুষ হত্যা করে। তারা জানেনা, দু চারটা গাড়ি পুড়িয়ে সরকার ফেলে দেয়া যায়না। নির্বাচনও ঠেকানো যাবে না। বরং আগুন নিয়ে খেলতে গেলে আগুনেই হাত পুড়ে যাবে। এসব অগ্নি সন্ত্রাস, লুটেরা, হত্যাকারী, দুর্নীতিবাজ ও এতিমদের অর্থ আত্মসাৎকারীদের প্রতিহত করতে হবে।

বুধবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেলে সিলেট নগরের আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আর এই জনসভার মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারনা শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী।

আগামী নির্বাচনে নৌকায় ভোট দেয়ার আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার হারানোর কিছু নেই, আমি সব হারিয়েছি। কেবল এক বোন ছাড়া আমার আর কেউ নেই। এই জনগনই আমার সব। তাই আমাকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। তাই নৌকায় ভোট দিন। কারণ এই নৌকা নুহু নবীর নৌকা। এই নৌকা মানব জাতিকে রক্ষা করেছে। নৌকায় ভোট দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতা পেয়েছে। উন্নয়ন পেয়েছে। আবারও আপনারা নৌকায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করুন। তাহলে বাংলাদেশকে কেউ আর দাবায়ে রাখতে পারবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালে আমেরিকা প্রস্তাব দিয়েছিলো দেশের গ্যাস বিক্রি করতে হবে। আমি রাজী হইনি। এ কারনে আমাদের ক্ষমতায় আসতে দেয়া হলো না। গ্যাস বিক্রির মুছলেখা দিয়ে ক্ষমতায় এলো বিএনপি। এরপর শুরু করা হলো দু:শাসন।

তিনি বলেন, আমরা যখন উন্নয়ন করছি, বিএনপি তখন আগুন দিয়ে মানুষ পুড়াচ্ছে। দেশের সম্পদ ধ্বংস করছে। ২০১৩ সালেও তারা এমনটি করেছিলো। ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৩ হাজারের মতো মানুষ পুড়িয়েছে তারা। ২০১৮ সালে ভোটে এসে তারা নমিনেশন বানিজ্য শুরু করলো। তারা তাদের নিজেদের কারণেই ডুবেছে।

গত ১৫ বছরে উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১৫ বছর বদলে যাওয়া বাংলাদেশ। বিএনপির আমলে দারিদ্রের হার ছিলো ৪১ ভাগ। এখন আমরা ১৮ ভাগে নামিয়ে এনেছি। মাথাপিছু আয় অনেক বেড়ে গেছে। এ দেশের কোন মানুষ যেন ভুমিহীন ও গৃহহীন না থাকে এ জন্য ৮ লক্ষ ৪১ হাজার ঘর নির্মান করে দিয়েছি। এখন সিলেটে কোন গৃহহীন ও ভূমিহীন নেই। ৮ লক্ষ মানুষকে আমর বয়স্ক ও বিধবা ভাতা দেই। শিক্ষা বৃত্তি ও উপবৃত্তি পাচ্ছে প্রায় ৩ কোটি শিক্ষার্থী। সাক্ষরতার হার ৪৫ ভাগ থেকে ৭৫ ভাগে উন্নীত করেছি। ১ কোটি থেকে খাদ্য উতপাদন ৯ কোটিতে উন্নীত করেছি। তবে সবাইকে খেয়াল রাখবেন, কোন জমি যেন পতিত না থাকে। নিজের খাদ্য নিজেই উতপাদন করেন।

তিনি বলেন, আজকের বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ। আজকে সবার হাতেই মোবাইল ফোন। ৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আমরা মোবাইল ফোন দিয়েছি। এখন গ্রামেগঞ্জেও ইন্টারনেট আছে।
আওয়ামী লীগের উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত করা হচ্ছে, ওসমানী বিমানবন্দর আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। সিলেটে মেট্রোরেল চালু করা যায় কি না সে জন্য সমীক্ষা চলছে। সুরমা নদীর খনন শুরু হয়েছে। সিলেটে যেভাবে আমরা উন্নয়ন করেছি, আমাদের প্রতিটি লক্ষ্য পূর্ন করেছি।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারন সম্পাদক জাকির আহমদ ও জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক নাসির উদ্দিন খানের সঞ্চালনয়ায় জনসভায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কথা বলেছিলাম। তা করেছি। এখন আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। আবার নির্বাচিত হলে আধুনিক প্রযুক্তিজ্ঞান সম্পন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলবো।

তিনি বলেন, ৮১ সালে দেশে ফিরে সিলেটে জনসভার মাধ্যমেই রাজনীতি শুরু করি। এরপর থেকে সবসময়ই সিলেটে আসি। এবারও সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করলাম।