শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশকে জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান ইউনিসেফের

সংস্থাটি অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহনের আহ্বান জানিয়েছে।

প্রকাশিত: ১২:২১ অপরাহ্ণ, মে ২৩, ২০২৬ | আপডেট: ১২:২১:অপরাহ্ণ, মে ২৩, ২০২৬

 

ইউনিসেফ বাংলাদেশে সম্প্রতি শিশুদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশুদের ধর্ষণ ও হত্যার মতো নৃশংস ঘটনার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক এ সংস্থাটি অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহনের আহ্বান জানিয়েছে।

 

 

 

এক বিবৃতিতে ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, “শিশুদের বিরুদ্ধে নৃশংসতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।”

 

 

তিনি বলেন, ২০২৬ সালের শুরু থেকেই বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও যৌন নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিশু সুরক্ষা এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা (জিবিভি) প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।

 

 

রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, অপরাধীদের দায়মুক্তির সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে সহিংসতা প্রতিরোধ, অভিযোগ জানানো, প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা, শিশুবান্ধব পুলিশ ও বিচারব্যবস্থা, কমিউনিটি সুরক্ষা এবং সামাজিক সেবার ক্ষেত্রে বিদ্যমান ঘাটতি দূর করার আহ্বান জানান তিনি।

 

 

তিনি নারী ও শিশুদের জন্য মানসিক সহায়তা বা সাইকোসোশ্যাল সাপোর্ট নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি স্কুল, মাদ্রাসা, কর্মক্ষেত্র, পাড়া-মহল্লা ও বিভিন্ন যত্নকেন্দ্রে আরও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

 

 

বিবৃতিতে তিনি বলেন, “সমাজ নীরব থাকলে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।” তিনি শিশু, নারী, পরিবার ও কমিউনিটির সদস্যদের যেকোনো সহিংসতা, নির্যাতন বা শোষণের ঘটনা সংশ্লিষ্ট সুরক্ষা সেবার মাধ্যমে জানাতে আহ্বান জানান। এ ক্ষেত্রে শিশু সহায়তা হেল্পলাইন ১০৯৮-এর কথাও উল্লেখ করেন, যা বিপদগ্রস্ত শিশুদের সহায়তা ও প্রয়োজনীয় সেবা দিয়ে থাকে।

 

 

রানা ফ্লাওয়ার্স আরও বলেন, নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের মর্যাদা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। ভুক্তভোগীদের ছবি, ভিডিও বা ব্যক্তিগত তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া তাদের প্রতি আরও এক ধরনের নির্যাতনের শামিল। তিনি বলেন, “যারা এসব ছবি বা তথ্য শেয়ার করেন, তারা বেঁচে থাকা ভুক্তভোগী, তাদের পরিবার এবং নিহতদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করছেন।”

 

 

ইউনিসেফ গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকারকে সম্মান করতে হবে এবং কোনো ধরনের ছবি বা ব্যক্তিগত তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকতে হবে। এর পরিবর্তে শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার এবং অপরাধীদের দায়মুক্তির অবসানের দাবিতে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

 

 

বিবৃতির শেষে রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, “প্রতিটি শিশুর অধিকার রয়েছে নিরাপদে বেড়ে ওঠার—তা কমিউনিটি, স্কুল, পরিবার কিংবা জনপরিসরে তাদের গল্প ও পরিচয় ব্যবহারের ক্ষেত্রেই হোক না কেন।”