কুলাউড়ায় সাংবাদিকদের সাথে এমপি প্রার্থী ম্যান্ডেলার মতবিনিময়

নির্বাচিত হলে কুলাউড়ায় কোন সন্ত্রাস, চাঁদাবাজের স্থান হবেনা

প্রকাশিত: ৮:২২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৭, ২০২৬ | আপডেট: ৮:২২:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৭, ২০২৬

*নির্বাচিত হলে সরকারি বেতন-ভাতা, গাড়ি-বাড়ি সুবিধা গ্রহণ করবো না

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় কর্মরত সকল সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী এম জিমিউর রহমান চৌধুরী ম্যান্ডেলা। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে কুলাউড়ার একটি অভিজাত রেষ্টুরেন্টে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি সাংবাদিকদের কাছে সহযোগিতা চেয়ে বলেন, গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কুলাউড়ার পৃথিমপাশা ইউনিয়নে বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। দায়িত্ব পালনকালে শুধু পৃথিমপাশা ইউনিয়নে নয়, কুলাউড়ার সর্বস্তরের মানুষের সুখে-দুঃখে ছিলাম, সাধ্যমত সহযোগিতা করেছি। আমি চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করে আমার বাড়িতে উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের সাথে মতবিনিময় করে এমপি পদে প্রার্থী হই। বৃহৎ পরিসরে উন্নয়ন বঞ্চিত কুলাউড়ার জনগণের সেবা করার জন্য আমি এবারের সংসদ নির্বাচনে ঘোড়া প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্ধিতা করছি। ইনশাআল্লাহ আমি বিজয়ী হলে সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত কুলাউড়ার কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি সাধারণ মানুষের কল্যাণে সর্বোচ্চ দিয়ে সেবা করে যাবো।
তিনি বলেন, আমি নির্বাচিত হলে কুলাউড়ায় কোন মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজের স্থান হবেনা। এসব অপরাধ নির্মূলে আমি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবো। আমি দীর্ঘদিন চা-বাগানে চাকুরীর সুবাধে চা শিল্পের সমস্যা-সম্ভাবনা ও শ্রমিকদের অধিকার সম্পর্কে আমার ধারণা রয়েছে এবং চা-শ্রমিকদের উন্নয়নে বিগত দিনে অনেক অবদান রেখেছি। ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর নাগরিকদের সাথে আমার সুসম্পর্ক রয়েছে। তাদের সকল সমস্যা সমাধানে আমার আন্তরিক সহযোগিতা থাকবে। নির্বাচিত হলে আমার ব্যক্তিগত কোন চাওয়া-পাওয়া নেই। একজন ব্যবসায়ী হিসেবে আমি সফল ও দেশজুড়ে পরিচিতি রয়েছে। এমপি নির্বাচিত হলে সরকারি বেতন-ভাতা, গাড়ি-বাড়ি সুবিধাসহ অন্যান্য ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ করবো না। আমার সবকিছু জনগণের কল্যাণে বিলিয়ে দিব। পর্যটন শিল্পের বিকাশে কুলাউড়া হাকালুকি হাওরসহ অন্যান্য পর্যটন স্থানকে নিয়ে আমার বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। কুলাউড়া হাসপাতালের শয্যাবৃদ্ধি, ক্রীড়াঙ্গণের উন্নয়নে স্টেডিয়াম নির্মাণ, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ছাড়াও কুলাউড়ার প্রধান সমস্যা শহরের যানজট এবং বিশেষ করে রবিরবাজার ও ব্রাহ্মণবাজারের যানজট নিরসনে কাজ করবো। এছাড়াও নির্বাচিত হলে সাংবাদিকদের কল্যাণে কাজ করা এবং তাদের পরামর্শ অগ্রাধিকার পাবে। দল, মত নির্বিশেষে সকল পর্যায়ের মানুষের কল্যাণে আমি নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাবো। আশা করছি, কুলাউড়ার সাধারণ মানুষ আমাকে কুলাউড়া বাসীর আগামী দিনের একজন সেবক হিসেবে ঘোড়া প্রতীকে তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে।

উল্লেখ্য, গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কুলাউড়ার পৃথিমপাশা ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্ধি হেভিওয়েট দুই প্রার্থীকে পরাজিত করে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে চমক দেখান। এলাকায় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, জনদরদি ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। নেলসন ম্যান্ডেলা পুরস্কারসহ একাধিক জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর বাবা মরহুম ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী ছিলেন পৃথিমপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি সুলতানপুর গ্রামের রাজাই পীর সাহেবের ভাগ্না, মুন্সী গিয়াস উদ্দিন এর নাতি।