ব্যাপক ভোটার উপস্থিতি ও উৎসবমুখর পরিবেশে কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রে ফিরল বাংলাদেশ। অপেক্ষার অবসানে উন্মুক্ত হলো নতুন স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে আয়োজিত গণভোটে গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের ৬০ শতাংশের কাছাকাছি ভোটার ভোট দিয়েছেন। অনেক ভোটকেন্দ্রে নারী ভোটারদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে।
নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ গতকাল দুপুরে জানান, দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩২ হাজার ৭৮৯টি কেন্দ্রে ৩২.৮৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। বিকেলে জানান, দুপুর ২টা পর্যন্ত ৪২ হাজার ৬৫১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৬ হাজার ৩১টি কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৪৭.৯১ শতাংশ। রাত ৯টার দিকে নির্বাচন সচিবালয় সূত্র জানায়, কয়েকটি কেন্দ্র বাদে অন্য কেন্দ্রগুলোতে গড়ে ৬০.৬৪ শতাংশ ভোট পড়েছে।
ঢাকা বিভাগ : ঢাকা জেলার ২০ আসনের মধ্যে গতকাল রাত ২টা পর্যন্ত তিনটি আসনের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ঢাকা-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক। ঢাকা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী আমানউল্লাহ আমান ও ঢাকা-২০ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. তমিজ উদ্দিনকে বিজয়ী ঘোষণা করেছেন ঢাকার রিটার্নিং অফিসার।
গাজীপুর জেলায় যাঁরা বিজয়ী : গাজীপুর-১ আসনে বিএনপির মো. মজিবুর রহমান, গাজীপুর-২ আসনে বিএনপির এম. মঞ্জুরুল করিম রনি, গাজীপুর-৩ আসনে বিএনপির এস এম রফিকুল ইসলাম, গাজীপুর-৪ আসনে জামায়াতের সালাহ উদ্দিন ও গাজীপুর-৫ আসনে বিএনপির এ কে এম ফজলুল হক।
নারায়ণগঞ্জ জেলায় যাঁরা বিজয়ী : নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির আজহারুল ইসলাম মান্নান, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এনসিপির আব্দুল্লাহ আল আমিন ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবুল কালাম।
টাঙ্গাইল জেলায় যাঁরা বিজয়ী : টাঙ্গাইল-১ আসনে বিএনপির ফকির মাহবুব আনাম স্বপন, টাঙ্গাইল-২ বিএনপির অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু, টাঙ্গাইল-৩ স্বতন্ত্র লুৎফর রহমান খান আজাদ, টাঙ্গাইল-৪ বিএনপির লুৎফর রহমান মতিন, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) বিএনপির সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, টাঙ্গাইল-৬ আসনে বিএনপির রবিউল আওয়াল লাভলু, টাঙ্গাইল-৭ আসনে বিএনপির আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী ও টাঙ্গাইল-৮ আসনে বিএনপির অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান।
শরীয়তপুর জেলায় যাঁরা বিজয়ী : শরীয়তপুর-১ আসনে বিএনপির সাঈদ আহমেদ আসলাম, শরীয়তপুর-২ আসনে বিএনপির শফিকুর রহমান কিরন ও শরীয়তপুর-৩ আসনে বিএনপির মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু।
গোপালগঞ্জ জেলায় যাঁরা বিজয়ী : গোপালগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যা, গোপালগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির কে এম বাবর ও গোপালগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির এস এম জিলানী।
মাদারীপুর জেলায় যাঁরা বিজয়ী : মাদারীপুর-১ আসনে স্বতন্ত্র সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা, মাদারীপুর-২ আসনে বিএনপির মো. জাহান্দার আলী মিয়া ও মাদারীপুর-৩ আসনে বিএনপির আনিসুর রহমান তালুকদার।
মানিকগঞ্জ জেলায় যাঁরা বিজয়ী : মানিকগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির এস এ জিন্নাহ কবীর, মানিকগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির আফরোজা খানম রিতা।
রাজবাড়ী জেলায় যাঁরা এগিয়ে : রাজবাড়ী-১ আসনে বিএনপির আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম ও রাজবাড়ী-২ আসনে বিএনপি হারুন অর রশিদ।
কিশোরগঞ্জ জেলায় যাঁরা বিজয়ী : কিশোরগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির ড. ওসমান ফারুক, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, কিশোরগঞ্জ-৬ আসনে বিএনপির শরিফুল আলম ও কিশোরগঞ্জ-৫ স্বতন্ত্র শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল।
ফরিদপুর জলায় যাঁরা এগিয়ে : ফরিদপুর-১ আসনে জামায়াতের মো. ইলিয়াস মোল্লা, ফরিদপুর-২ আসনে বিএনপির শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু, ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে বিএনপির চৌধুরী নায়াব আহমেদ ইউসুফ, ফরিদপুর-৪ আসনে বিএনপির মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল।
নরসিংদী জলায় যাঁরা বিজয়ী : নরসিংদী-১ (সদর) আসনে বিএনপির খায়রুল কবির খোকন, নরসিংদী-২ আসনে বিএনপির ড. আব্দুল মঈন খান, নরসিংদী-৩ আসনে বিএনপির মনজুর এলাহী, নরসিংদী-৪ আসনে বিএনপির সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, নরসিংদী-৫ আসনে বিএনপির ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল।
ঢাকা বিভাগ : ঢাকা বিভাগের ১৩ জেলায় মোট সংসদীয় আসন ৭০টি। এর মধ্যে ৫৯টিতে এগিয়ে আছে বিএনপি। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ৯টিতে এগিয়ে আছে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী দুটিতে এগিয়ে আছে। বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে ঢাকা-১ আসনে খোন্দকার আবু আশফাক, ঢাকা-২ আসনে মো. আমানউল্লাহ আমান, ঢাকা-৩ আসনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা-৬ আসনে ইশরাক হোসেন, ঢাকা-৭ আসনে হামিদুর রহমান, ঢাকা-৮ মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা-৯ আসনে হাবিবুর রশিদ হাবিব, ঢাকা-১০ আসনে শেখ রবিউল আলম, ঢাকা-১৩ আসনে ববি হাজ্জাজ, ঢাকা-১৬ আসনে মো. আমিনুল হক, ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমান, ঢাকা-১৮ আসনে এস. এম. জাহাঙ্গীর হোসেন, ঢাকা-১৯ আসনে দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ও ঢাকা-২০ আসনে মো. তমিজ উদ্দিন।
অন্যদিকে জামায়াত জোটের প্রার্থীদের মধ্যে ঢাকা-৪ আসনে সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, ঢাকা-৫ আসনে মোহাম্মদ কামাল হোসেন, ঢাকা-১১ আসনে এনসিপির মো. নাহিদ ইসলাম, ঢাকা-১২ আসনে জামায়াতের মো. সাইফুল আলম, ঢাকা-১৪ আসনে মীর আহমাদ বিন কাসেম ও ঢাকা-১৫ আসনে ডা. শফিকুর রহমান।
টাঙ্গাইলে যাঁরা এগিয়ে : টাঙ্গাইল জেলার আটটি সংসদীয় আসনে প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, টাঙ্গাইল-১ মধুপুর-ধনবাড়ী আসনে বিএনপির ফকির মাহবুব আনাম স্বপন, টাঙ্গাইল-২ গোপালপুর-ভূঞাপুর আসনে বিএনপির অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু, টাঙ্গাইল-৩ ঘাটাইল আসনে স্বতন্ত্র বিএনপির বিদ্রোহী লুৎফর রহমান খান আজাদ, টাঙ্গাইল-৪ কালিহাতী আসনে বিএনপির লুৎফর রহমান মতিন, টাঙ্গাইল-৫ সদর আসনে বিএনপির সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, টাঙ্গাইল-৬ নাগরপুর-দেলদুয়ার আসনে বিএনপির রবিউল আওয়াল লাভলু, টাঙ্গাইল-৭ মির্জাপুর আসনে বিএনপির আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী এবং টাঙ্গাইল-৮ বাসাইল-সখীপুর আসনে বিএনপির অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান এগিয়ে আছেন।
গাজীপুরে যাঁরা এগিয়ে : বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে গাজীপুর-১ আসনে মো. মজিবুর রহমান, গাজীপুর-২ আসনে এম মঞ্জুরুল করিম রনি, গাজীপুর-৩ আসনে এস. এম. রফিকুল ইসলাম ও গাজীপুর-৫ আসনে এ. কে. এম. ফজলুল হক মিলন।
অন্যদিকে গাজীপুর-৪ আসনে জামায়াত প্রার্থী সালাহ উদ্দিন এগিয়ে আছেন।
রাজবাড়ীতে যাঁরা এগিয়ে : রাজবাড়ী-১ আসনে বিএনপির আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম ও রাজবাড়ী-২ আসনে বিএনপির মো. হারুন-অর-রশিদ এগিয়ে আছেন।
মাদারীপুরে ৩ আসনেই বিএনপি এগিয়ে: মাদারীপুর-১ আসনে বিএনপির নাদিরা আক্তার, মাদারীপুর-২ আসনে বিএনপির মো. জাহান্দার আলী মিয়া ও মাদারীপুর-৩ আসনে আনিছুর রহমান এগিয়ে আছেন।
শরীয়তপুরে ৩ আসনেই বিএনপি এগিয়ে : তাঁরা হচ্ছেন, শরীয়তপুর-১ আসনে সাঈদ আহমেদ, শরীয়তপুর-২ আসনে মো. সফিকুর রহমান (কিরন) ও শরীয়তপুর-৩ আসনে মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু।
নারায়ণগঞ্জে ৩ আসনে বিএনপি ও ২ আসনে জামায়াত জোট এগিয়ে : নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে মো. নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে আজহারুল ইসলাম মান্নান ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আবুল কালাম। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জামায়াত জোট মনোনীত এনসিপিরি প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন এগিয়ে আছেন।
ময়মনসিংহে যাঁরা বিজয়ী : বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী ময়মনসিংহ-১ স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেল। ময়মনসিংহ-২ আসনে জামায়াত জোটের খেলাফত মজলিসের মুহিবুল্লাহ। ময়মনসিংহ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হুসাইন।
ময়মনসিংহ-৪ আসন বিএনপির আবু ওয়াহাব আকন্দ। ময়মনসিংহ-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী জাকির হোসেন বাবলু। ময়মনসিংহ-৬ জামায়াতের কামরুল ইসলাম মিলন। ময়মনসিংহ-৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী ডাক্তার মাহবুবুর রহমান লিটন। ময়মনসিংহ-৮ আসনে বিএনপির লুত্ফুল্লাহেল মাজেদ। ময়মনসিংহ-৯ আসনে বিএনপির ইয়াসের খান চৌধুরী, ময়মনসিংহ-১০ আসনে বিএনপির আখতারুজ্জামান বাচ্চু, ময়মনসিংহ-১১ আসনে বিএনপির ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু।
জামালপুর : জামালপুরের পাঁচটি আসনের মধ্যে দুটিতে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন। জামালপুর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বিজয়ী হয়েছেন। জামালপুর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. সুলতান মাহমুদ বাবু বিজয়ী হয়েছেন। জামালপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল এগিয়ে আছেন এবং তাঁর নিকটতম জামায়াতের প্রার্থী মুজিবুর রহমান আজাদী, জামালপুর-৪ বিএনপির প্রার্থী ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম এগিয়ে রয়েছেন। তাঁর নিকটতম জামায়াতের মো. আব্দুল আউয়াল এবং জামালপুর-৫ বিএনপির প্রার্থী শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন ভোটে এগিয়ে আছেন। তাঁর নিকটতম জামায়াতের প্রার্থী আব্দুস সাত্তার।
শেরপুর : শেরপুরের তিনটি আসনের মধ্যে একটিতে নির্বাচন স্থগিত। বাকি দুটি আসনের মধ্যে একটি আসনে বিএনপি প্রার্থী বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী। আরেকটিতে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী এগিয়ে আছেন। শেরপুর-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম রাশেদ বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী। শেরপুর-২ আসনে বিএনপির প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন।
নেত্রকোনা : নেত্রকোনার পাঁচটি আসনের চারটিতে বিএনপি এবং একটিতে জামায়াত এগিয়ে। তাঁরা হলেন নেত্রকোনা-১ আসনে বিএনপির ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, নেত্রকোনা-২ আসনে বিএনপির অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক, নেত্রকোনা-৩ আসনে বিএনপির ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী, নেত্রকোনা-৪ আসনে বিএনপির লুত্ফুজ্জামান বাবর এবং নেত্রকোনা-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মাছুম মোস্তফা।
রংপুর বিভাগ : রংপুর বিভাগের আটটি জেলার ৩৩টি আসনের মধ্যে বিএনপি ১৪টি আসনে বেসরকারি ফলাফলে জয়ী হয়েছে এবং জামায়াত ১৯টি আসনে জয়ী হয়েছে। বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন পঞ্চগড়-১-এ ব্যারিস্টার নওশাদ জামির, পঞ্চগড়-২ আসনে ফরহাদ হোসেন আজাদ, ঠাকুরগাঁও-১-এ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে আব্দুস সালাম, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে জাহিদুল ইসলাম। এ ছাড়া নীলফামারী-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা আব্দুস সাত্তার, নীলফামারী-২ আসনে জামায়াতের আলফারুক আব্দুল লতিফ, নীলফামারী-৩ আসনে জামায়াতের মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফি, নীলফামারী-৪ আসনে জামায়াতের আব্দুল মুনতাকিম। রংপুর-১ আসনে জামায়াতের মো. রায়হান সিরাজী, রংপুর-২ আসনে জামায়াতের এ টি এম আজহারুল ইসলাম, রংপুর-৩ আসনে জামায়াতের মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর-৪ আসনে এনসিপির আখতার হোসেন, রংপুর-৫ আসনে বিএনপির গোলাম রব্বানী, রংপুর-৬ আসনে নুরুল আমিন।
কুড়িগ্রাম-১ আসনে জামায়াতের আনোয়ারুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-২ আসনে এনসিপির আতিক মুজাহিদ, কুড়িগ্রাম-৩ আসনে জামায়াতের ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী, কুড়িগ্রাম-৪ আসনে জামায়াতের মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, লালমনিরহাট-১ আসনে বিএনপির হাসান রাজীব প্রধান।
অপেক্ষার অবসান, নতুন স্বপ্নের শুরু : এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গতকাল সকাল ১০টা ২৬ মিনিটে রাজধানীর গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেওয়া শেষে বলেন, ‘এটা আমার জীবনে মহা আনন্দের দিন। বাংলাদেশের সবার মনে এটা মহা আনন্দের দিন, মুক্তির দিন। আমাদের দুঃস্বপ্নের অবসান, নতুন স্বপ্নের শুরু।’
গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর করতে সার্বিক সহযোগিতা করায় বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সব রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী, নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পর্যবেক্ষক, গণমাধ্যমকর্মী, ভোটারসহ দেশবাসীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। বাংলাদেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নতি কামনা করে আজ শুক্রবার বাদ জুমা সব মসজিদে বিশেষ দোয়া এবং অন্যান্য উপাসনালয়ে সুবিধাজনক সময়ে বিশেষ প্রার্থনা আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে। গত রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই আহবান জানানো হয়। এর আগে সকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন হাই স্কুলে ভোট দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আগে তো আপনারা ভোটকেন্দ্রে অনেক কুকুর (ভোটারশূন্য অর্থে) দেখিয়েছেন টেলিভিশনে, আজ কেন্দ্রের ধারেকাছে তো কুকুর দেখছি না। এখন সব মানুষ আর মানুষ।’
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সকালে রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই দিনটার অপেক্ষায় ছিলাম। অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন চলছে। আমি সম্মানিত ভোটারদের অনুরোধ করব, আপনারা নির্ভয়ে আপনাদের বাসা থেকে বের হয়ে পোলিং স্টেশনে যাবেন এবং ভোট দেবেন। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। একটা সুষ্ঠু নির্বাচন, আজ সেই নির্বাচন হতে যাচ্ছে।’
নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রধান দুটি দলও গতকাল ভোট চলাকালে নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে নিজেদের সন্তুষ্টির কথা জানায়। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সকালে নিজ আসনে ভোট প্রদান এবং কয়েকটি কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে গুলশানে তাঁর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপকালে বলেন, ‘ভোটাররা যেন তাঁদের দেওয়া ভোটের ফল দ্রুত জানতে পারেন, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’
তিনি আরো বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ ভোটই গণতন্ত্রকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে। জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পারলে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হবে না।’ ভোট সুষ্ঠু হলে ফলাফল মেনে নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিকেল ৪টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভোট এবার এতটা উৎসবমুখর হবে, এটা কেউ ভাবেনি। মানুষের যে আগ্রহ, যে উচ্ছ্বাস, সারা দিনে শতাধিক কেন্দ্র ঘুরে দেখেছি। এখন পর্যন্ত নির্বাচন অনেক সুন্দর হয়েছে।’
তবে রাত সাড়ে ১১টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ‘নির্দিষ্ট কিছু আসনে নির্দিষ্ট কিছু প্রার্থীকে বিজয়ী করে আনার জন্য একধরনের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে, এটা বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে আমাদের কাছে।’
মাহদী আমিন উদাহরণ হিসেবে বলেন, ঢাকা-৮, ঢাকা-১১, ঢাকা-১৩, ঢাকা-১৬ আসনসহ বেশ কিছু আসনে ভোট গণনায় এবং ফলাফল ঘোষণায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিলম্ব করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে সেই রায় আমরা মেনে নেব। অন্যদেরও তা মানতে হবে। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।’ এরপর রাত পৌনে ১২টায় মগবাজারে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘কিছু আসনে ইঁদুর-বিড়াল খেলা হচ্ছে। ঢাকা-৮ আসন এখনো ঝুলে থাকবে কেন, সেখানে কী হচ্ছে? এটা আপনারা (সাংবাদিকরা) জানেন। এই বিষয়গুলো সুস্থ ধারার রাজনীতির পরিচয় বহন করে না।’
দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে আনন্দঘন ও প্রত্যাশিত একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জাতি তার সব সন্তানকে নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে।’ এরপর বিকেল ৫টায় তিনি ‘বিপুল ভোটে’ ও ‘সর্বোচ্চসংখ্যক’ আসনে জয়ের প্রত্যাশা রেখে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিক্ষিপ্ত সংঘাত-অনিয়মের কিছু ঘটনা ছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া ছিল ‘অনন্যসাধারণ’।
বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের পর্যবেক্ষণ : বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকরাও নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে ভোট পরিদর্শনের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস বলেন, ‘দুপুর পর্যন্ত আমরা ভোটারদের মধ্যে যথেষ্ট উদ্দীপনা দেখেছি।’
বিবিসির দক্ষিণ এশিয়া ও আফগানিস্তান প্রতিনিধি যোগিতা লিমায়ে তাঁর সরেজমিন ‘আমি ২০১৮ সালে এখানে ছিলাম—এখন বাতাস অন্য রকম লাগছে’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলেন, ‘আমার মনে আছে, ২০১৮ সালে শেখ হাসিনা যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন আমি বাংলাদেশে ছিলাম। পরিবেশ এখনকার চেয়ে অনেক আলাদা ছিল। ঢাকা ও বাংলাদেশের অন্যান্য অংশে ঘুরে বেড়ানোর সময় আমার মনে আছে, আমি শুধু একটি দলের (শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ) পোলিং এজেন্ট, প্রচারণার উপকরণ ও পোস্টার দেখেছি। একটা সীমাবদ্ধ পরিবেশ ছিল। আমরা যখন তাদের (সাধারণ মানুষ) সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করতাম, তখন লোকেরা খোলাখুলি কথা বলতে ভয় পেত। এখন বাতাসটা অন্য রকম লাগছে। আমরা যাদের সঙ্গে কথা বলেছি তাদের অনেকের মধ্যে স্পষ্ট উত্তেজনা রয়েছে। আপনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পোস্টার দেখতে পাচ্ছেন।’
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ‘তবে ঢাকার ভোটকেন্দ্রে আমরা দেখেছি যে অনেকেই প্রথম ঘণ্টার মধ্যেই তাদের ভোট দিয়েছে এবং আমরা যাদের সঙ্গে কথা বলেছি তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছে যে তারা আশা করে, আজকের নির্বাচনের পরে এই দেশে সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে।’

