কুলাউড়ায় নির্বাচনী জনসভায় নওয়াব আলী আব্বাছ খানঃ আমি বিজয়ী হলে কুলাউড়াকে শান্তির জনপদ হিসেবে গড়ে তুলবো।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-২ কুলাউড়া আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব, সাবেক তিন বারের এমপি নওয়াব আলী আব্বাছ খান বলেছেন,আমি নির্বাচিত হলে জনগনের জানমালের নিরাপত্তা সহ বঞ্চিত কুলাউড়ার উন্নয়ন হবে। ‘কুলাউড়ার মানুষের কাছে জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি পরীক্ষিত। তিনবার সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সংসদে ও এলাকার উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছি। সেই পুরোনো অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই। এটাই আমার জীবনের হয়তো শেষ নির্বাচন।’ আমি বিজয়ী হলে কুলাউড়াকে শান্তির জনপদ হিসেবে গড়ে তুলবো। উপজেলার প্রতিটি চা-বাগানের শ্রমিকসহ ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর লোকদের সুখে-দুঃখে সবসময় পাশে ছিলাম। আশা করছি তারা এবার আমাকে পুনরায় মূল্যায়িত করবে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কুলাউড়া পৌর শহরের ডাকবাংলো মাঠে আয়োজিত তাঁর নির্বাচনী জনসভায় তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
তিনি বলেন, আমি চাইলে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে এমপি হতে পারতাম। কিন্তু বিএনপি ও সমমনা দলের সাথে আন্দোলনে ভূমিকা রাখতে গিয়ে আমি নির্বাচনে অংশ নেইনি। আমি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১২ দলীয় জোটের কাজী জাফর জাতীয় পার্টির মহাসচিবের দায়িত্বে রয়েছি। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষণা অনুযায়ী আন্দোলনে সমমনা ১২ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দদের নিয়ে জাতীয় সরকার গঠনের যে ঘোষনা রয়েছে, আমি সেই জাতীয় সরকারেরও একজন সদস্য হিসেবে থাকবো নিশ্চিত করে বলতে পারি। প্রশাসনের প্রতি হুঁশিয়ারী দিয়ে তিনি বলেন, কোন নিরীহ ব্যক্তিকে আওয়ামীলীগ ট্যাগ দিয়ে হয়রানি করা যাবেনা। যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে মামলা দেন এর বাইরে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করলে আমি প্রতিরোধ ঘোষণা করবো। সাবেক এমপি নওয়াব আলী সারোয়ার খান, এএনএম ইউসুফ মুক্তার, সুলতান মনসুর, এম এম শাহীন, আব্দুল জব্বারের উন্নয়নের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্বীকার করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে কুলাউড়ার উন্নয়নে তাদের ব্যাপক ভূমিকা ছিল।
বিগত সময়ে কুলাউড়ার উন্নয়ন নিয়ে তিনি বলেন, অনেক প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী এবার তাদের নির্বাচনী সভায় বলে বেড়াচ্ছেন আমি কুলাউড়ার জন্য কি উন্নয়ন করেছি। আমি যখন প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হই তখন অনেক প্রার্থীর রাজনৈতিক জন্মই হয়নি। তারা কিভাবে আমার করা উন্নয়ন দেখবে। বিশেষ করে কুলাউড়া-রবিরবাজার সড়ক, ব্রাহ্মণবাজার-শমসেরনগর সড়ক, কুলাউড়া-সাগরনাল সড়ক, জুড়ী-ফুলতলা সড়ক আমার সময়ে করা হয়েছে। আমার পরিবারের পৈত্রিক সম্পত্তিতে শহরের পুরনো ডাকবাংলো, কুলাউড়া থানা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়, কুলাউড়া টিএনটি এক্সচেঞ্জ অফিস তৈরি করা হয়। আমার উদ্যোগে সর্বস্তরের লোকদের নিয়ে ডাকবাংলো মাঠটি আধুনিকায়ন করা হয় এবং স্বাধীনতা স্মৃতিসৌধ তৈরি করা হয়। যেখানে দল, মত, নির্বিশেষে সকল রাজনৈতিক দল দলীয়সহ বিভিন্ন কর্মসূচি করে যাচ্ছেন। এগুলো কি উন্নয়ন না, আর কত উন্নয়ন করলে আপনাদের চোখে লাগবে।
নওয়াব আলী আব্বাছ বলেন, তিন বার সংসদে দায়িত্ব পালন করেছি। কেউ বলতে পারবেনা আমার সময়ে আমার কোন সমর্থক বা লোক থানায় দালালী করেছেন, পিআইও অফিসে কমিশন বাণিজ্য করেছে। আমি নির্বাচিত হলে সকল মতের মানুষকে নিয়ে সুন্দর একটি কুলাউড়া উপহার দিব। তিনি আরো বলেন, এমপি নির্বাচিত হলে কুলাউড়ার প্রধান সমস্যা শহরের যানজট নিরসন, পর্যটনের বিকাশ সাধনে হাকালুকি হাওরসহ সকল পর্যটন স্থানের উন্নয়ন, কৃষির উন্নয়নসহ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি সকল দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করবো।
আয়োজিত জনসভায় সাবেক শিক্ষক মুহিবুর রহমান লাল মিয়ার সভাপতিত্বে ও উপজেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি শেখ আশরাফ উদ্দিনের পরিচালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টি নেতা ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মুহিবুল কাদির পিন্টু, পৃথিমপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নবাব আলী নকী খান ও আলী বাকর খান হাসনাইন, সমাজসেবক নওয়াব আলী তকী খান, ছাত্রনেতা নওয়াব আলী হাসিব খান প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ১৯৮৮, ১৯৯১ ও ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসন থেকে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন নওয়াব আলী আব্বাছ খান। তিনি জাতীয় পার্টির একজন ভ্যানগার্ড নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর ২০১৪ সালে এরশাদের জাতীয় পার্টি ত্যাগ করে কাজী জাফরের জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। এরপর আর নির্বাচনে অংশ নেননি। এবার বিএনপি জোটের মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হয়ে ফুটবল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বর্ষিয়ান এ রাজনীতিবিদ। ফুটবল প্রতীকের জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী মাঠে বড় চমক দেখানোর প্রত্যাশা তাঁর।

