হামের প্রকোপ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে

প্রকাশিত: ১:১৮ অপরাহ্ণ, মে ১২, ২০২৬ | আপডেট: ১:১৮:অপরাহ্ণ, মে ১২, ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার:


 

 

 

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত শিশুদের আক্রান্ত করে। বাংলাদেশে এক সময় হাম ছিল মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ, কিন্তু গত কয়েক দশকে সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI)-এর সাফল্যে এই রোগের প্রাদুর্ভাব ব্যাপকভাবে কমে এসেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের কিছু অঞ্চলে এবং নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে হামের প্রকোপ পুনরায় দেখা দিচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

 

সংক্রমণের বর্তমান চিত্র
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা গেছে যে, দেশের দুর্গম পার্বত্য এলাকা, উপকূলীয় অঞ্চল এবং বড় শহরগুলোর বস্তি এলাকায় মাঝে মাঝে হামের ‘আউটব্রেক’ বা প্রাদুর্ভাব ঘটে। বিশেষ করে ভাসমান জনগোষ্ঠী এবং যারা টিকার ডোজ সম্পন্ন করেনি, তাদের মধ্যে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

 

 

 

 

 

 

   আরও পড়ুন : বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’, মিলবে বিশেষ সুবিধা

 

 

 

 

কেন নতুন করে ঝুঁকি বাড়ছে?
হামের প্রাদুর্ভাব পুনরায় ফিরে আসার পেছনে বেশ কিছু কারণ শনাক্ত করা হয়েছে:

টিকাদানে অনীহা বা গ্যাপ: কিছু পরিবার ধর্মীয় বা সামাজিক কুসংস্কারের কারণে অথবা ব্যস্ততার জন্য শিশুদের সময়মতো টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেয় না।

জলবায়ু পরিবর্তন ও স্থানচ্যুতি: প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মানুষের স্থানান্তরের ফলে অনেক শিশু নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ পড়ে যায়।

পুষ্টির অভাব: ভিটামিন ‘এ’-র অভাব থাকলে হামের ঝুঁকি এবং এর জটিলতা (যেমন নিউমোনিয়া বা অন্ধত্ব) কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

 

 

 

প্রতিরোধে সরকারের পদক্ষেপ
বাংলাদেশ সরকার হাম এবং রুবেলা নির্মূলে MR (Measles-Rubella) ক্যাম্পেইন পরিচালনা করে থাকে। বর্তমানে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। এছাড়াও নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর দেশব্যাপী গণ-টিকাদান কর্মসূচি চালানো হয় যাতে কোনো শিশু বাদ না পড়ে।

 

 

 

আরও পড়ুন : বাজারে আমের মৌ মৌ গন্ধ, জমে উঠেছে মৌসুমি ফলের বেচাকেনা

 

 

 

 

হামের লক্ষণসমূহ
যদি কোনো শিশুর মধ্যে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে:

তীব্র জ্বর এবং শরীর ম্যাচম্যাচ করা।

কাশির সাথে নাক দিয়ে পানি পড়া।

চোখ লাল হয়ে যাওয়া।

শরীরে লালচে দানা বা র‍্যাশ ওঠা (সাধারণত মুখ থেকে শুরু হয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে)।

 

 

 

করণীয় ও সচেতনতা
হাম প্রতিরোধে সচেতনতাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। অভিভাবকদের যা যা মনে রাখা প্রয়োজন:

টিকাদান নিশ্চিত করুন: আপনার শিশুর ৯ মাস এবং ১৫ মাস বয়সের দুটি টিকা সঠিক সময়ে নিশ্চিত করুন।

ভিটামিন-এ ক্যাপসুল: সরকারের ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইনে শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ান, যা হামের জটিলতা কমায়।

 

 

 

আলাদা রাখা: কোনো শিশু আক্রান্ত হলে তাকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখুন এবং পর্যাপ্ত তরল খাবার ও বিশ্রাম নিশ্চিত করুন।

 

 

 

 

উপসংহার: বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে হাম নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এই লক্ষ্য অর্জনে কেবল সরকারের প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়; প্রতিটি নাগরিককে সচেতন হতে হবে এবং প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনতে হবে। মনে রাখবেন, হামের কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই, কিন্তু টিকা প্রদানের মাধ্যমে এটি শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য।