লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জগন্নাথপুরবাসী- প্রতি ৬ ঘন্টা পরপর বিদ্যুৎ মিলছে ১ ঘন্টা

প্রকাশিত: 12:02 AM, April 16, 2026 | আপডেট: 12:02:AM, April 16, 2026

 

জগন্নাথপুর প্রতিনিধি::

বিদ্যুতের অস্বাভাবিক লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন জগন্নাথপুর উপজেলারাসী। গত কয়েকদিন মাত্রাতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলছে।

আজ বুধবার সকাল থেকে ১১ টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪ টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার পর প্রায় ৫ পর বিদ্যুতের দেখা মিলেও এরপর বিদ্যুতের আসা যাওয়ার পালা শুরু হয়। ফলে সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিস সুত্র জানায়, সারাদেশজুড়ে বিদ্যুতের ঘাটতে চলছে। বুধবার হঠাৎ করেই এর তীব্রতা আরো বেড়ে যায়। জগন্নাথপুরে উপজেলায় সাড়ে ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২ থেকে ৩ মেঘাওয়াট। জগন্নাথপুরের কেউ কেউ এলাকায় প্রতি ৬ ঘন্টা পরপর বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের শেষে মাত্র ১ ঘন্টা বিদ্যুতের সরবরাহ করা হচ্ছে। আবার লোডশেডিং করে অন্য এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করতে হয় ।

জগন্নাথপুরের ভূক্তভোগীরা জানান, সাম্প্রতিককালে প্রবাসী অধ্যুষিত এ উপজেলায় বিদ্যুতের লোডশেডিং মারাত্মকভাবে বেড়েছে। এরমধ্যে যদি ঝড়-বৃষ্টি হয় হলে ১৪-১৫ ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে।

পৌরশহরের ইকড়ছই আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ভূক্তভোগী শামীম আহমদ বলেন, বিদ্যুতের অসহনীয় যন্ত্রনায় আমরা অতিষ্ঠ। দিবারাত্রি সমানতালে লোডশেডিং করা হচ্ছে। ফলে অবর্ননীয় কষ্ঠ ভোগ করতে হয়।
ফজলুর রহমান নামের আরেক ভুগভোগি জানান, এমনিতেই অতিরিক্ত লোডশেডিং করা হচ্ছে। এরমধ্যে যদি ঝড় বৃষ্টি হয় তাহলে ১৫ থেকে ১৬ ঘন্টা বিদ্যুৎ মিলে না। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে গ্রামীণফোনের ইন্টারনেট ও নেটওয়ার্ক সেবা বন্ধ যায়। ফলে অচল হয়ে পড়ে জগন্নাথপুর।
স্থানীয় গৃহিনী স্বপ্না বেগম বলেন, বিদ্যুতের সমস্যার কারণে পানির মটর চালানো যায় না। ফলে তীব্র পানি সংকটে পড়তে হয়। এছাড়া ফ্রিজে থাকা জিনিসপত্র নষ্ট হচ্ছে। বাসাবাড়ির কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এসব কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা আবাসিক ( বিদ্যুৎ) প্রকৌশলী আজিজুল ইসলাম আজাদ বলেন, আমাদের চাহিদা রয়েছে সাড়ে ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। কিন্তু বরাদ্দ পাওয়া গেছে ২.৫ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় বিদ্যুতের লোডশেডিং হচ্ছে। নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবে আমাদের আন্তরিকতার কমতে নেই।