শেখ হাসিনার বক্তব্যের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই: জয়সওয়াল

শেখ হাসিনার বক্তব্যে সমর্থন নেই ভারতের

প্রকাশিত: 12:50 AM, August 8, 2026 | আপডেট: 12:50:AM, August 8, 2026
ছবি: সংগৃহীত।

 

ভারতের মাটিতে সম্প্রতি ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক অঙ্গনে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানিয়েছে ভারত সরকার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্টভাবে বলেছেন, ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা বা সমর্থন নেই।

 

 

শুক্রবার (৭ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

 

আরও পড়ুন: ৫ আগস্ট ২০২৪: আন্দোলন থেকে ক্ষমতার পরিবর্তন—বাংলাদেশের ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণ

 

 

রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন বা ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার বা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে যেসব বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো ধরনের সম্পর্ক বা সমর্থন নেই।”

 

 

তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আয়োজিত অনুষ্ঠানে ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশকে ভারত সরকারের সরকারি অবস্থান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

 

 

 

 

এর আগে, গত বুধবার রাতে দিল্লি থেকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় বাংলাদেশ সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনাকে সরাসরি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে আঘাত করেছে এবং বিষয়টি গভীর উদ্বেগের।

 

 

আরও পড়ুন: শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়েছে ট্রাইব্যুনাল

 

 

বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ রাষ্ট্র, বর্তমান সরকার এবং জনগণের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন। সরকার এ ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক হিসেবে উল্লেখ করে।

 

 

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের জনগণ যখন জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালন করছে, ঠিক সেই সময়ে ভারতের মাটিতে এ ধরনের কর্মসূচির আয়োজন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অসম্মান এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতির প্রতি অবমাননার শামিল।

 

 

 

এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতিসংঘের তথ্য ও অনুসন্ধানে উঠে আসা ঘটনাগুলো অস্বীকার করার যে চেষ্টা করা হয়েছে, তা ইতিহাসকে বিকৃত করার একটি ব্যর্থ প্রয়াস। বাংলাদেশ সরকার মনে করে, দেশের জনগণ অতীতের মতো ভবিষ্যতেও এ ধরনের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করবে।

 

 

 

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই বক্তব্য দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এর মাধ্যমে নয়াদিল্লি স্পষ্ট করেছে যে, শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভার্চুয়াল বক্তব্যকে ভারত সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করার কোনো সুযোগ নেই।

 

 

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে ফিরে বিচার মোকাবিলায় প্রস্তুত সাকিব আল হাসান, চান নিরাপত্তার নিশ্চয়তা