নিজস্ব প্রতিবেদক | মাদ্রিদ, স্পেন
স্পেনে অবস্থানরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের ভোগান্তি লাঘবে প্রথমবারের মতো সরাসরি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট সেবা দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষ প্রতিনিধিদল। ডেপুটি সেক্রেটারি কাজী আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত এই কার্যক্রমের প্রথম ধাপে বার্সেলোনায় ৯ থেকে ১১ মে পর্যন্ত প্রায় ছয় শতাধিক প্রবাসী এই সেবা গ্রহণ করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইউরোপের কোনো দেশে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রদানের এমন উদ্যোগ এবারই প্রথম।
স্পেনে সফররত বাংলা কাগজের চেয়ারম্যান আবুল আজাদের সম্মানে চা চক্র অনুষ্ঠিত
প্রতিনিধিদলের সদস্যরা জানিয়েছেন, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বার্সেলোনার জোসেফ তারাদিয়া এলাকার একটি হলরুমে এই সেবা প্রদান করা হয়। নতুন অনলাইন আবেদনকারীদের তথ্য যাচাই শেষে তাৎক্ষণিকভাবে হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট। এ ছাড়া পুরোনো সার্টিফিকেটের ভুল সংশোধন এবং দীর্ঘদিন আটকে থাকা অফলাইন আবেদনগুলোও নতুন করে অনলাইন আবেদনের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। ৯ মে শুরু হওয়া এই বিশেষ কার্যক্রম বার্সেলোনা ও মাদ্রিদ মিলিয়ে ১৩ মে পর্যন্ত চলার কথা থাকলেও প্রবাসীদের ব্যাপক সাড়া ও পরিস্থিতি বিবেচনায় সেবার মেয়াদ আরও বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাদ্রিদে বাংলাদেশ দূতাবাসের হলরুমে আগামী ১৪, ১৭, ১৮ এবং ১৯ মে পর্যন্ত এই বিশেষ সেবা প্রদান করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সমুদ্র নিরাপত্তা ও SAR কার্যক্রমে বাংলাদেশ-ইতালি সহযোগিতা জোরদারে নতুন দিগন্ত
এদিকে সরকারের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিরা। গত ৯ মে বার্সেলোনায় সেবাপ্রার্থীদের ভিড় ও ভোগান্তি এড়াতে আনুষ্ঠানিকতা সীমিত রেখে একটি সংক্ষিপ্ত কৃতজ্ঞতা সভার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সাবেক ছাত্রদল অর্গানাইজেশন ইউরোপের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবু জাফর রাসেলের সঞ্চালনায় এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসুদুর রহমান।
সভায় স্পেন বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন মনির, সাধারণ সম্পাদক রমিজ উদ্দিন, কাতালোনিয়া বিএনপির আহ্বায়ক শফিউল ইসলাম, সিনিয়র সহসভাপতি মনোয়ার পাশা সহ কাতালোনিয়া ও মাদ্রিদ বিএনপির শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, স্পেন সরকার সম্প্রতি দেশটিতে থাকা প্রায় পাঁচ লাখ নথিহীন অভিবাসীকে বৈধ করার জন্য যে ‘সাধারণ ক্ষমা’ ঘোষণা করেছে, তাতে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স একটি অপরিহার্য নথি। সঠিক সময়ে এই সেবা পাওয়ায় হাজার হাজার বাংলাদেশির বৈধ হওয়ার পথ সহজ হলো।
উদ্যোগটির সফল বাস্তবায়নে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ এবং বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকনসহ বিশেষ সমন্বয়কারী সাংবাদিক নুরুল ওয়াহিদ, আফাজ জনি, তথ্যসেবক ও মানবাধিকার কর্মী হাসান শুভ, সাইফুল ইসলাম হিমেল, ওবায়দুর রহমান খান সাদা ও স্বেচ্ছাসেবকদের বিশেষ ধন্যবাদ জানানো হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই বিশেষ কার্যক্রমের ফলে একদিকে যেমন প্রবাসীদের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে, অন্যদিকে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের প্রশাসনিক সেবার মান ও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হচ্ছে।

