মাহবুবুর রহমান: অনলাইন ভর্ষণ এডিটর
তীব্র দাবদাহ আর লোডশেডিংয়ের ঘনঘটায় অতিষ্ঠ জনজীবন। এই পরিস্থিতিতে জনমনে স্বস্তি ফেরাতে অপরিহার্য হয়ে উঠেছে আইপিএস (Instant Power Supply)। বর্তমান বাজারের প্রেক্ষাপটে আইপিএস-এর চাহিদা ও আনুষঙ্গিক বিষয় নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন নিচে উপস্থাপন করা হলো:
অসহনীয় গরম ও লোডশেডিং
এপ্রিলের শেষভাগ থেকে শুরু হওয়া তীব্র তাপদাহ মে মাসে এসে আরও প্রকট হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত। এর সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা লোডশেডিং। বিশেষ করে শহর ও মফস্বল এলাকায় রাতে এবং দুপুরে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে আইপিএস।
চাহিদার তুঙ্গে আইপিএস বাজার
রাজধানীর নবাবপুর, স্টেডিয়াম মার্কেট এবং ইলেকট্রনিক্স শোরুমগুলোতে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, গত দুই সপ্তাহে আইপিএস-এর বিক্রি স্বাভাবিকের চেয়ে তিন থেকে চার গুণ বেড়েছে। বিক্রেতাদের মতে, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের পাশাপাশি এখন নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোও কিস্তিতে বা অল্প বাজেটে আইপিএস কেনার দিকে ঝুঁকছে।
জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ও মূল্য তালিকা (আনুমানিক)
বাজারে বর্তমানে দেশি ও বিদেশি উভয় ধরনের আইপিএস-এর আধিপত্য দেখা যাচ্ছে। মূলত ব্যাটারির ক্ষমতা এবং লোড (ফ্যান ও লাইটের সংখ্যা) অনুযায়ী দাম নির্ধারিত হয়।
| আইপিএস-এর ধরণ | ধারণ ক্ষমতা (VA/Watts) | আনুমানিক মূল্য (টাকা) | সুবিধা |
| ছোট (Basic) | ৪০০ – ৬০০ VA | ১৫,০০০ – ২৫,০০০ | ২ ফ্যান, ৩ লাইট |
| মাঝারি (Standard) | ৮০০ – ১০০০ VA | ৩০,০০০ – ৪৫,০০০ | ৪ ফ্যান, ৫ লাইট |
| বড় (Heavy) | ১৫০০+ VA | ৫০,০০০ – ৮০,০০০+ | কম্পিউটার, টিভি ও ফ্রিজসহ |
আইপিএস ইউনিটের দামের চেয়ে বর্তমানে ব্যাটারির দাম বৃদ্ধির কারণে মোট খরচ কিছুটা বেশি হচ্ছে।
ব্যাটারির সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি
আইপিএস-এর মূল প্রাণ হলো ব্যাটারি। চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে ভালো মানের টিউবুলার ব্যাটারির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৫-১০% বেশি দামে ব্যাটারি কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। হ্যামকো, রহিম আফরোজ, ভলভো এবং লুমিনাস-এর মতো ব্র্যান্ডগুলোর চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
ক্রেতাদের পছন্দ ও প্রযুক্তির পরিবর্তন
বর্তমানে ক্রেতারা সনাতন আইপিএস-এর বদলে সোলার আইপিএস এবং ডিজিটাল পিওর সাইন ওয়েভ (Pure Sine Wave) আইপিএস বেশি পছন্দ করছেন। এর কারণগুলো হলো:
-
নিরাপত্তা: ডিজিটাল আইপিএস ইলেকট্রনিক ডিভাইসের (যেমন: ল্যাপটপ বা স্মার্ট টিভি) কোনো ক্ষতি করে না।
-
সাশ্রয়: সোলার প্যানেল যুক্ত আইপিএস বিদ্যুৎ বিল কমাতে সাহায্য করে।
-
শব্দহীন: আধুনিক আইপিএসগুলো চলার সময় কোনো বিরক্তিকর শব্দ করে না।
বিশেষজ্ঞ ও বিক্রেতাদের পরামর্শ
আইপিএস কেনার সময় কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা:
-
লোড ক্যালকুলেশন: আপনার বাসায় ঠিক কয়টি ফ্যান ও লাইট চলবে তা হিসাব করে সঠিক VA-র আইপিএস কিনুন।
-
ওয়ারেন্টি যাচাই: ব্যাটারি এবং আইপিএস ইউনিটের ওয়ারেন্টি কার্ড সংগ্রহ করুন।
-
রক্ষণাবেক্ষণ: ব্যাটারিতে নিয়মিত ডিস্টিল্ড ওয়াটার চেক করুন এবং টার্মিনাল পরিষ্কার রাখুন।
-
সতর্কতা: সস্তা বা নন-ব্র্যান্ডের আইপিএস থেকে দূরে থাকুন, কারণ এগুলো থেকে শর্ট সার্কিট বা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি থাকে।
গরমের তীব্রতা যতদিন না কমছে, আইপিএস-এর এই বাড়তি চাহিদা বজায় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে লোডশেডিং নিরসনে সরকারি উদ্যোগ এবং বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কিছুটা লাঘব হবে।

