মৃত্যুকূপ থেকে ফিরে মহাকাব্যিক জয়, মিসরকে ৩–২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

মেসির জাদুতে অলৌকিক প্রত্যাবর্তন

প্রকাশিত: 12:43 AM, July 8, 2026 | আপডেট: 12:43:AM, July 8, 2026

স্পোর্টস ডেস্ক:

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মঞ্চে ফুটবলপ্রেমীরা দেখলেন এক অবিশ্বাস্য নাটকীয়তা। ম্যাচের ৬৭ মিনিট পর্যন্ত দুই গোলে পিছিয়ে থাকা আর্জেন্টিনা শেষ ১৫ মিনিটে তিন গোল করে মিসরকে ৩–২ ব্যবধানে হারিয়ে জায়গা করে নিয়েছে কোয়ার্টার ফাইনালে। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এই দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ইতোমধ্যেই এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় ম্যাচ হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছে।

 

 

 

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। তবে সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হওয়ার সুযোগে ১৫তম মিনিটে ইয়াসের ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে যায় মিসর। প্রথমার্ধে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেননি লিওনেল মেসি। তার নেওয়া পেনাল্টি দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর। ফলে ১–০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।

 

 

 

দ্বিতীয়ার্ধে ৬৭তম মিনিটে মোস্তফা জিকোর গোলে ব্যবধান ২–০ হলে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অভিযান বুঝি শেষ হয়ে গেল। কিন্তু এরপরই বদলে যায় পুরো ম্যাচের চিত্র।

 

 

 

৭৯তম মিনিটে মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে গোল করে ব্যবধান কমান ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। সেই গোলেই নতুন করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় আর্জেন্টিনা। মাত্র চার মিনিট পর, ৮৩তম মিনিটে দুর্দান্ত এক ফিনিশে সমতা ফেরান অধিনায়ক লিওনেল মেসি। মুহূর্তেই প্রাণ ফিরে আসে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের।

 

 

নাটকের শেষ দৃশ্য আসে যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে। লাউতারো মার্তিনেজের বাড়ানো বল থেকে এনজো ফার্নান্দেজের হেড জড়িয়ে যায় জালে। ৩–২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা, আর সেই গোলেই নিশ্চিত হয় রুদ্ধশ্বাস জয়।

 

 

 

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়ে আর্জেন্টিনা শিবির। অন্যদিকে, দারুণ লড়াই করেও শেষ মুহূর্তের হতাশা নিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয় মিসরকে।

 

 

 

এই জয়ের ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ হবে সুইজারল্যান্ড ও কলম্বিয়ার মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী। শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্নও আরও এক ধাপ এগিয়ে নিল লিওনেল মেসির দল। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এই জয় অনেক দিন ধরেই ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে অমলিন হয়ে থাকবে।