টানা মৌসুমি বৃষ্টিতে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে ভয়াবহ ভূমিধসে অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে সাতজন শিশু ও একজন শিক্ষক রয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবকেরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন।
বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে উখিয়ার একটি শিক্ষাকেন্দ্রে পাঠদান চলাকালে পাশের পাহাড়ের ঢাল ধসে পড়ে। মুহূর্তেই কাদামাটি ও মাটির স্তূপে চাপা পড়ে স্কুলঘরটি। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রাণ হারায়। পরে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আরও মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকর্মীরা জানান, প্রবল বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় ভূমিধসের ঝুঁকি অনেক বেড়ে গেছে। ফলে আশপাশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে এক হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে অনেক পরিবার নিজেদের অস্থায়ী ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে অনীহা প্রকাশ করছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর আগামী কয়েক দিন আরও ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে। এতে কক্সবাজারের পাহাড়ি এলাকা এবং রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রশাসন সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবির হিসেবে পরিচিত কক্সবাজারে বর্তমানে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা ঘনবসতিপূর্ণ এসব ক্যাম্পে বর্ষা মৌসুম এলেই ভূমিধস ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। মানবিক সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে শিবিরের অবকাঠামো আরও নিরাপদ করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছে।

