সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ, ময়নাতদন্তে মিলতে পারে মৃত্যুর নতুন রহস্য
পুনরায় ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত
বিনোদন ডেস্ক:
ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের লক্ষ্যে তাঁর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন (এক্সহিউমেশন) করে পুনরায় ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডির পরিদর্শক জিয়াউল মোরশেদ জানান, সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে আদালতের কাছে মরদেহ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং ময়নাতদন্তের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন।
তিনি বলেন, “আদালতের নির্দেশ পাওয়া গেছে। এখন কিছু প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এরপর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি এবং ময়নাতদন্ত করা হবে।”
সম্প্রতি ঢাকার মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এ সংক্রান্ত আদেশ দেন।
সালমান শাহর মৃত্যু বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত ঘটনা। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের নিজ বাসা থেকে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে সময় তদন্তে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও শুরু থেকেই তাঁর পরিবার ও অসংখ্য ভক্ত হত্যার অভিযোগ তুলে আসছেন। গত প্রায় তিন দশক ধরে এ মৃত্যু নিয়ে নানা প্রশ্ন, বিতর্ক ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
এই মামলাটি বিভিন্ন সময়ে একাধিক সংস্থা তদন্ত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে Criminal Investigation Department (সিআইডি), Police Bureau of Investigation (পিবিআই) এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিভিন্ন তদন্তে আত্মহত্যার মতামত দেওয়া হলেও সালমান শাহর পরিবার সেই প্রতিবেদনগুলো প্রত্যাখ্যান করে পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়ে আসছে।
সালমান শাহ, যার প্রকৃত নাম ছিল শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন, মাত্র কয়েক বছরের অভিনয় জীবনেই বাংলা চলচ্চিত্রে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তিনি অভিনীত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘তুমি আমার’,সহ একাধিক চলচ্চিত্র আজও দর্শকদের কাছে সমান জনপ্রিয়। আধুনিক পোশাক, অভিনয়শৈলী ও পর্দা উপস্থিতির মাধ্যমে তিনি নব্বইয়ের দশকের বাংলা চলচ্চিত্রে নতুন ধারার সূচনা করেছিলেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আধুনিক ফরেনসিক প্রযুক্তির সহায়তায় পুনরায় ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তবে এত বছর পর মরদেহের অবস্থা এবং সংরক্ষণ পরিস্থিতি ফরেনসিক পরীক্ষাকে কতটা কার্যকর করবে, সেটিও বিশেষজ্ঞদের বিবেচনার বিষয়।
সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের লক্ষ্যে এই নতুন উদ্যোগে তাঁর পরিবার, ভক্ত এবং চলচ্চিত্রাঙ্গনের অনেকেই আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।

