
জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি::
মালবোঝাই করে একটি ট্রলি ঝুকিপূর্ণ সেতুতে ওঠতেই ট্রলির একাংশ খুলে পড়লো সেতুর ওপরে। আরেকট অংশ নিচে আটকে পড়ে। ফলে ফলে যান বাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
আজ রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা সদরের নলুজর নদীর ওপর নির্মিত ডাক বাংলোর ঝুঁকিপূর্ণ সেতুতে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নদীর পূর্বাঞ্চল থেকে চালবোঝাইকৃত একটি ট্রলি গাড়ি নদীর পশ্চিম পারে যাওয়ার সময় ওই নদীর ডাকবাংলোর জোরাতালির সরু সেতুতে ওঠতেই হঠাৎ করে ট্রলির সামনের ইঞ্চিলের অংশ খুলে সেতুর ওপর আটকে যায়। ট্রলির অপর অংশ (বডি) সেতুর নিচে আটকে পড়ে। এতে করে বড় ধরনের কোন দুর্ঘটনা না ঘটলেও যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগ পড়েন জনসাধারণ। তবে প্রায় দুই ঘন্টা যানচলাচল বন্ধ থাকার পর বেলা দুপুর দেড়টার দিকে আবার যানচলাচল শুরু হয়।
স্থানীয়রা জানালেন, ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতু যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। প্রায়ই সেতুর পাটাতন ফাঁক হয়ে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়। ফলে ওই ফাঁকে যানবাহনের চাকা আটকে ঘটছে দুর্ঘটনা। অনেকে ছিটকে পড়ছেন নদীতে। ইতিমধ্যে সেতুর একাংশের রেলিং ভেঙে গেছে। সম্প্রতিকালে এ সেতুতে কমপক্ষে ১৫ টি দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় দুই যুবক সমাজকর্মী অরূপ সরকার ও সুহেল মিয়ার উদ্যাগে সেতুর পাটাতনের ফাঁক বন্ধ করায় সাময়িক দুর্ঘটনা থেকে লোকজন রক্ষা পান।
প্রতিনিয়ত এমন দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ডাকবাংলো সেতু সংলগ্ন তাছিম চুলা ঘরের মালিক ব্যবসায়ী সুহানুর রহমান সুহেল জানান, প্রতিদিন কমপক্ষে ৪/৫ দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা টমটমের চাকা পাটাতনের ফাঁকে ঢুকে। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কে এ বিষয়ে অবগত করলেও তারা নীরব ভূমিকা পালন করেন। নিরুপায় হয়ে নিজেদের উদ্যাগে ফাঁক বন্ধের চেষ্টা করি। সম্প্রতি সেতুর রেলিং ভেঙে যায়। ঝুঁকি এড়াতে বাঁশ দিয়ে রেলিং দেয়া হয়। সেতু সংলগ্ন ঔষধের দোকানের মালিক রিংকু আদিত্য বলেন, প্রতিদিন ওই সেতুতে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে লোকজন আমাদের এখানে এলে আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে পাঠাই।
এলাকাবাসী ও স্হানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র জানায়,১৯৮৮ সালে এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীদের টাকায় একই নদীর ওপর ডাক বাংলো সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ১৯৯৬ সালে স্থানীয় সংসদ সদস্য তৎকালীন পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদের নির্দেশে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সেতুর কাজ শেষ করে। ২০২২ সালে ১৭ মার্চ নদী খনন কালে সেতুর পিলারের কাছ থেকে খনন যন্ত্র দিয়ে মাটি কাটার সময় সেতু দেবে যায়।এরপর সেতু দিয়ে ১১ মাস যান চলাচল বন্ধ থাকে। এসময় স্থানীয় সংসদ সদস্য এম এ মান্নানের অনুরোধে সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর থেকে পাটাতন এনে এলজিইডি ও জগন্নাথপুর পৌরসভা উদ্যোগে সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত অংশে স্টিলের পাটাতন বসিয়ে সেতুটি চালু করা হয়। অপর দিকে ১৯৮৭ সালে উপজেলার নলজুর নদীর ওপর ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে খাদ্য গুদামের সামনে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। বিগত সরকারের আমলে পুরোনো এ সেতুটি ভেঙে ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান রাজধানীর হাতিরঝিলের আদলে ২৩ সালের ২৬ মার্চ আর্চ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এরপর থেকে নির্মাণ কাজ শুর হয়। তিনদফা সময় শেষ হলেও সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন জগন্নাথপুর উপজেলাবাসী।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী সোরবার হোসেন জানান,ঝুঁকিপূর্ণ ডাকবাংলো সেতুর জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে মেসার্স হাসান এন্টার প্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ১৮০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৮ ফুট প্রস্থ সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করবে । বর্ষার পরপর সেতুর কাজ শুরু হবে। পাটাতন ফাঁকের বিষয়টি সমাধানের উদ্যাগ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন গুদামের পাশের সেতুর কাজ চলমান রয়েছে। আগামি ৩ মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি।